রেইনকোট গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা এখান থেকে ফ্রি পড়তে পারবে। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্পের মূলভাব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ও সাধারণ মানুষের বীরত্বে রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদা একজন অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক। পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে তিনি সবসময় তটস্থ থাকেন। তাঁর শ্যালক মিন্টু একজন মুক্তিযোদ্ধা, যে যুদ্ধে যাওয়ার সময় নিজের রেইনকোটটি তাঁর বাসায় রেখে যায়। একদিন কলেজে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলার পর পাকিস্তানি আর্মি শিক্ষকদের তলব করে। সেই বৃষ্টির দিনে কলেজে যাওয়ার জন্য নুরুল হুদা শ্যালকের ফেলে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে জড়ান।
এই রেইনকোটটি গায়ে দেওয়া মাত্রই তাঁর ভেতরের সমস্ত ভয় ও কাপুরুষতা দূর হয়ে যায়। একজন মুক্তিযোদ্ধার পোশাকের স্পর্শে তাঁর ধমনিতে সঞ্চারিত হয় অদম্য সাহস ও দেশপ্রেম। পরবর্তীতে মিলিটারিরা তাঁকে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করলেও চাবুকের আঘাতের মুখে তিনি বিন্দুমাত্র ভাঙেননি। গল্পটি দেখায়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কীভাবে একজন সাধারণ মানুষকেও অকুতোভয় বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করতে পারে।
রেইনকোট গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর
০১. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন তারিখে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি
খ. ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মে
গ. ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ মে
ঘ. ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ এপ্রিল
উত্তর: ক. ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ১২ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা: বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
০২. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. মরিচা গ্রামে
খ. চুরুলিয়া গ্রামে
গ. গোটিয়া গ্রামে
ঘ. শংকরপাশা গ্রামে
উত্তর: গ. গোটিয়া গ্রামে
ব্যাখ্যা: আখতারুজ্জামান ইলিয়াস গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার গোটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
০৩. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক. হাসপাতালে
খ. দাদার বাড়িতে
গ. অনাথ আশ্রমে
ঘ. মামার বাড়িতে
উত্তর: ঘ. মামার বাড়িতে
ব্যাখ্যা: গাইবান্ধার গোটিয়া গ্রামে অবস্থিত তাঁর মাতুলালয় বা মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
০৪. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মূলত কী ছিলেন?
ক. প্রাবন্ধিক
খ. কথাসাহিত্যিক
গ. সাংবাদিক
ঘ. ঔপন্যাসিক
উত্তর: খ. কথাসাহিত্যিক
ব্যাখ্যা: তিনি গল্পের সংখ্যায় কম হলেও জীবনঘনিষ্ঠ ও বাস্তবসম্মত রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমাদৃত।
০৫. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ কোনটি?
ক. সভ্যতার সংকট
খ. সংস্কৃতি কথা
গ. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
ঘ. শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
উত্তর: গ. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
ব্যাখ্যা: ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ।
০৬. আখতারুজ্জামান রচিত গল্পগ্রন্থের সংখ্যা কয়টি?
ক. ৩ টি
খ. ৫ টি
গ. 7 টি
ঘ. ৯ টি
উত্তর: খ. ৫ টি
ব্যাখ্যা: তাঁর প্রকাশিত মোট ছোটগল্প বা গল্পগ্রন্থের সংখ্যা ৫টি (অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ও জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল)।
০৭. ‘দোজখের ওম’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের কোন ধরনের রচনা?
ক. উপন্যাস
খ. প্রবন্ধ
গ. গল্পগ্রন্থ
ঘ. নাটক
উত্তর: গ. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা: ‘দোজখের ওম’ (১৯৮৯) আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের জীবনবাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা একটি জনপ্রিয় গল্পগ্রন্থ।
০৮. ‘দুধেভাতে উৎপাত’ গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
ক. শওকত ওসমান
খ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের
গ. কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ. হাসান আজিজুল হক
উত্তর: খ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের
ব্যাখ্যা: ‘দুধেভাতে উৎপাত’ বাস্তবধর্মী সমাজচিত্রের আলোকে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি অনবদ্য গল্প সংকলন।
০৯. নিচের কোনটি উপন্যাস?
ক. আমার অবিশ্বাস
খ. অন্য ঘরে অন্য স্বর
গ. খোয়াবনামা
ঘ. ছাড়পত্র
উত্তর: গ. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা: ‘খোয়াবনামা’ আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মহাকাব্যিক পটভূমিতে রচিত বাংলা সাহিত্যের এক যুগান্তকারী উপন্যাস।
১০. নিচের কোনটি উপন্যাস?
ক. চিলেকোঠার সেপাই
খ. অন্য ঘরে অন্য স্বর
গ. খোঁয়ারি
ঘ. দোজখের ওম
উত্তর: ক. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা: ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘চিলেকোঠার সেপাই’ তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কালজয়ী প্রথম উপন্যাস।
১১. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন পুরস্কার লাভ করেন?
ক. নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক
খ. একুশে পদক
গ. বাংলা একাডেমি
ঘ. মুক্তধারা পুরস্কার
উত্তর: খ. একুশে পদক
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় পদক ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।
১২. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কত সালে ‘বাংলা একাডেমি’ পুরস্কার লাভ করেন?
ক. ১৯৮৯ সালে
খ. ১৯৮২ সালে
গ. ১৯৭১ সালে
ঘ. ১৯৭৭ সালে
উত্তর: খ. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা: কথাসাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
১৩. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৭৭ সালের ৪ জানুয়ারি
খ. ১৯৯৬ সালের ১০ জানুয়ারি
গ. ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি
ঘ. ২০০০ সালের ১১ অক্টোবার
উত্তর: গ. ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা: ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৪. ‘দোয়া মনে হলো ঠিকই কিন্তু মাথায় দিতে ভুলে গেল।’ শূন্যস্থানে উপযুক্ত কোন শব্দটি বসবে?
ক. মাথাল
খ. টুপিটা
গ. হেলমেট
ঘ. পরচুলা
উত্তর: খ. টুপিটা
ব্যাখ্যা: বৃষ্টির দিনে বের হওয়ার সময় নুরুল হুদার সব কথা বা দোয়াদরুদ মনে পড়লেও তাড়াহুড়োয় মাথায় ধর্মীয় টুপি দিতে তিনি ভুলে যান।
১৫. পিওন ঘরে ঢুকলে নুরুল হুদার কী করতে ইচ্ছে করে?
ক. জড়িয়ে ধরে দু’গালে চড় মারতে
খ. জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করতে
গ. জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে
ঘ.军事 ক্যাম্পে কাটিয়ে দিতে
উত্তর: গ. জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে
ব্যাখ্যা: মিলিটারি আসার ভয়ে তটস্থ নুরুল হুদা যখন দেখলেন কড়া নাড়া মানুষটি আর্মি নয় বরং কলেজের পিওন, তখন স্বস্তিতে তার পিওনকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছে করেছিল।
১৬. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার কোন দিকে?
ক. কলেজের পুকুর পাড়ের উত্তর দিকে
খ. কলেজের বাগানের দক্ষিণ পাশে
গ. মাঠ পেরিয়ে একটু বাঁ দিকে
ঘ. কলেজের ক্লাবের দেয়াল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে
উত্তর: ঘ. কলেজের ক্লাবের দেয়াল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে
ব্যাখ্যা: ঢাকা কলেজের ভেতরের ভৌগোলিক বিবরণে প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদের বাসাটি ক্লাবের দেয়াল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ছিল।
১৭. মিলিটারি কার কোয়ার্টারের সাথে থাকে?
ক. পিওনের বাসার সাথে
খ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের
গ. কলেজের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কোয়ার্টারের সাথে
ঘ. college হোস্টেল সুপারের কোয়ার্টারের সাথে
উত্তর: খ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানি মিলিটারিরা কলেজের প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের একদম গা ঘেঁষেই তাদের আস্তানা গেড়েছিল।
১৮. can জিমনেশিয়াম এখন কী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
ক. পিওনের বাসা
খ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার
গ. মিলিটারি ক্যাম্প
ঘ. মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প
উত্তর: গ. মিলিটারি ক্যাম্প
ব্যাখ্যা: মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কলেজের ঐতিহ্যবাহী জিমনেশিয়ামটিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের শক্তিশালী মিলিটারি ক্যাম্পে রূপান্তরিত করেছিল।
১৯. প্রিন্সিপালের বাড়ির গেটে বোমা ফেলা অর্থ কী?
ক. মুক্তিবাহিনীকে আটক করা
খ. মিলিটারি ক্যাম্প আটক করা
গ.军事কে সাহায্য করা
ঘ. মিলিটারি ক্যাম্প অ্যাটাক করা
উত্তর: ঘ. মিলিটারি ক্যাম্প অ্যাটাক করা
ব্যাখ্যা: যেহেতু প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের সাথেই মিলিটারি ক্যাম্প ছিল, তাই তার গেটে বোমা মারার অর্থ সরাসরি পাকিস্তানি সেনাদের ক্যাম্পে আক্রমণ বা অ্যাটাক করা।
২০. ‘রেইনকোট’ গল্পে collegeটা এখন কাদের দখলে আছে?
ক. শিক্ষকদের
খ. ছাত্রদের
গ. মিলিটারির
ঘ. মুক্তিবাহিনীর
উত্তর: গ. মিলিটারির
ব্যাখ্যা: ১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ ঢাকায় পুরো কলেজ প্রাঙ্গণটি সম্পূর্ণ পাকিস্তানি মিলিটারির নিয়ন্ত্রণে বা ক্যাম্পে পরিণত হয়েছিল।
২১. ইসহাক জিওগ্রাফির প্রফেসরের বাড়ির দিকে রওয়ানা হয় কিসে করে?
ক. সি. এন. জি.
খ. রিকশা
গ. বাস
ঘ. বেবি ট্যাক্সি
উত্তর: খ. রিকশা
ব্যাখ্যা: বৃষ্টির মধ্যে প্রিন্সিপালের জরুরি তলব নিয়ে কলেজের পিওন ইসহাক মিয়া জিওগ্রাফির প্রফেসরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রিকশায় চড়ে রওনা দেয়।
২২. ইসহাক এপ্রিল মাস থেকে কোন ভাষায় কথা বলে?
ক. আরবি
খ. হিন্দি
গ. বাংলা
ঘ. উর্দু
উত্তর: ঘ. উর্দু
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানি মিলিটারিদের তোষামোদ করতে এবং নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে বাঙালি হওয়া সত্ত্বেও পিওন ইসহাক এপ্রিল মাস থেকে বাংলা ছেড়ে কেবল উর্দুতে কথা বলা শুরু করে।
২৩. হাঁপানির টান আছে কার?
ক. আসমার
খ. নুরুল হুদার
গ. প্রিন্সিপালের
ঘ. আব্দুস সাত্তার মৃধার
উত্তর: ঘ. আব্দুস সাত্তার মৃধার
ব্যাখ্যা: ঢাকা কলেজের জিওগ্রাফির (ভূগোল) প্রফেসর আব্দুস সাত্তার মৃধার দীর্ঘদিনের পুরনো হাঁপানির তীব্র সমস্যা বা টান ছিল।
২৪. প্রিন্সিপাল দিনরাত দোয়া-দরুদ পড়ে কার জন্য?
ক. মুক্তিবাহিনীর জন্য
খ. শিক্ষকদের জন্য
গ. পাকিস্তানের জন্য
ঘ. পরিবারের জন্য
উত্তর: গ. পাকিস্তানের জন্য
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানের দালাল ও কুখ্যাত প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদ দিনরাত কেবল পাকিস্তানের অখণ্ডতা ও মঙ্গলের জন্য নামাজ-কালাম ও দোয়াদরুদ পড়ত।
২৫. প্রিন্সিপাল কবে স্কুল-কলেজ থেকে শহিদ মিনার হটানোর জন্য আবেদন জানায়?
ক. যুদ্ধের শুরুতে
খ. এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি
গ. জুন মাসের শেষে
ঘ. মার্চ মাসের ২৫ তারিখে
উত্তর: খ. এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা: বাঙালির চেতনার প্রতীক শহিদ মিনারকে সহ্য করতে না পেরে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে প্রিন্সিপাল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছে তা ভেঙে ফেলার লিখিত আবেদন জানায়।
রেইনকোট গল্পের mcq প্রশ্ন ও উত্তর
২৬. পাকিস্তানি বাহিনী গ্রামেগঞ্জে গিয়েই প্রথমে কিসের দিকে কামান তাক করেছে?
ক. ধন-সম্পদের দিকে
খ. মুক্তিবাহিনীর দিকে
গ. শহিদ মিনারের দিকে
ঘ. মেয়েলোকের দিকে
উত্তর: গ. শহিদ মিনারের দিকে
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ধূলিসাৎ করতে যেখানেই গেছে, প্রথম সুযোগেই শহিদ মিনারগুলোকে কামান বা গানপাউডার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
২৭. নুরুল হুদাকে এক্সট্রা তটস্থ থাকতে হয় কেন?
ক. মিন্টুর জন্য
খ. আসমার জন্য
গ. পাকিস্তানি বাহিনীর জন্য
ঘ. প্রিন্সিপালের জন্য
উত্তর: ক. মিন্টুর জন্য
ব্যাখ্যা: নুরুল হুদার শ্যালক মিন্টু একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় এবং বাড়ি থেকে সরাসরি যুদ্ধে চলে যাওয়ায় নুরুল হুদাকে মিলিটারির ভয়ে অতিরিক্ত তটস্থ বা সাবধানে থাকতে হতো।
২৮. মিন্টু মগবাজারের দুই কামরার ফ্ল্যাট থেকে চলে যায় কবে?
ক. ১ এপ্রিল
খ. ৩০ মার্চ
গ. ২৩ জুন
ঘ. ২১ ফেব্রুয়ারি
উত্তর: খ. ৩০ মার্চ
ব্যাখ্যা: ২৫শে মার্চের কালরাত্রির ঠিক পর পরই, অর্থাৎ ৩০শে মার্চ সকালে মিন্টু মগবাজারের বাসা ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার টানে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়।
২৯. মিলিটারি আসার পর থেকে নুরুল হুদা কতবার বাড়ি বদল করে?
ক. তিনবার
খ. দুইবার
গ. একবারও নয়
ঘ. চারবার
উত্তর: ঘ. চারবার
ব্যাখ্যা: মুক্তিযোদ্ধার দুলাভাই হওয়ার কারণে এবং আর্মির তল্লাশির হাত থেকে বাঁচতে নুরুল হুদা গত কয়েক মাসে চার-চারবার নিজের বাসা বা বাড়ি পরিবর্তন করেছিলেন।
৩০. “আমার ভাইটাকে আর ঢাকায় রাখলাম না।” উক্তিটি কার?
ক. আসমার
খ. নুরুল হুদা
গ. প্রিন্সিপালের
ঘ. নিচের তলার ভদ্রলোকের
উত্তর: ক. আসমার
ব্যাখ্যা: নুরুল হুদার স্ত্রী আসমা প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে এবং ভাই মিন্টুর খোঁজ লুকাতে এই বানিয়ে বলা উক্তিটি পাড়া-পড়শিদের কাছে করত।
৩১. পুবদিকের জানালা ধরে দাঁড়ালে কী চোখে পড়ে?
ক. মিলিটারির ক্যাম্প ও গাড়ি
খ. কলেজ ও প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার
গ. বিল আর ধানক্ষেত
ঘ. মসজিদ ও রাস্তা
উত্তর: খ. কলেজ ও প্রিন্সিপাল কোয়ার্টার
ব্যাখ্যা: নুরুল হুদার বর্তমান বাসার পূর্বদিকের জানালা খুললে সরাসরি ঢাকা কলেজ প্রাঙ্গণ এবং প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার স্পষ্ট দেখা যেত।
৩২. মিন্টু কোথায় আছে তা জানে কে?
ক. প্রিন্সিপাল
খ. পাকিস্তানি বাহিনী
গ. নুরুল হুদা ও তার বউ
ঘ. আব্দুস সাত্তার মৃধা
উত্তর: গ. নুরুল হুদা ও তার বউ
ব্যাখ্যা: মিন্টু বর্ডার পার হয়ে ক্র্যাক প্লাটুনের গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে ঢাকায় ফিরে এসেছে, এই অত্যন্ত গোপন তথ্যটি কেবল নুরুল হুদা ও আসমাই জানত।
৩৩. নুরুল হুদার নিচের ফ্লাটে কে থাকে?
ক. ইলেকট্রিক ওয়ার্কশপের মালিক
খ. ওয়েলডিং ওয়ার্কশপের মালিক
গ. ইঞ্জিনিয়ার
ঘ. রাজাকার
উত্তর: খ. ওয়েলডিং ওয়ার্কশপের মালিক
ব্যাখ্যা: নুরুল হুদা যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, তার ঠিক নিচের তলার ফ্ল্যাটেই এক ভাঙাচোরা লোহালক্কড়ের ওয়েলডিং ওয়ার্কশপের মালিক সপরিবারে বাস করত।
৩৪. গোড়ালি পর্যন্ত ঢাকা পড়েছে কোন পোশাকে?
ক. বোরখা
খ. রেইনকোট
গ. পাঞ্জাবি
ঘ. মিলিটারির পোশাক
উত্তর: খ. রেইনকোট
ব্যাখ্যা: লম্বা ও চওড়া গড়নের শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি খাটো নুরুল হুদার শরীরে এতটাই বড় ছিল যে তা পরার পর তাঁর পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে গিয়েছিল।
৩৫. “আব্বু ছোট মামা হয়েছে” কথাটির অর্থ কী?
ক. আব্বুকে জানানো হচ্ছে ছোট মামা সম্পর্কে
খ. আব্বুকে ছোট মামার মতো লাগছে
গ. আব্বু আর ছোট মামার একাত্মতা
ঘ. আব্বুর সাথে ছোট মামার বৈসাদৃশ্য
উত্তর: খ. আব্বুকে ছোট মামার মতো লাগছে
ব্যাখ্যা: মুক্তিযোদ্ধা ছোট মামার বিশাল রেইনকোটটি পরার পর নুরুল হুদাকে হুবহু তার শ্যালক মিন্টুর অবয়বের মতো লাগছিল, যা দেখে তার সন্তান এই মন্তব্য করে।
৩৬. মেয়ের ঘুম ভাঙা গলায় ভাঙা ভাঙা বুলি শুনে নুরুল হুদার অনুভূতি কেমন ছিল?
ক. খুব ভালো লাগছিল
খ. চমকে উঠেছিল
গ. স্বর্গীয় অনুভূতি জাগে
ঘ. শান্তির ছোঁয়া লাগে প্রাণে
উত্তর: খ. চমকে উঠেছিল
ব্যাখ্যা: শ্যালক মিন্টু একজন ফেরারি মুক্তিযোদ্ধা, তাই মেয়ের মুখে ‘ছোট মামা’র নাম শুনে মিলিটারির ভয়ে নুরুল হুদা হঠাৎ ভীষণ চমকে বা আঁতকে উঠেছিলেন।
৩৭. নুরুল হুদার ছেলের বয়স কত?
ক. আড়াই বছর
খ. চার বছর
গ. পাঁচ বছর
ঘ. সাড়ে পাঁচ বছর
উত্তর: গ. পাঁচ বছর
ব্যাখ্যা: গল্পে উল্লেখ রয়েছে নুরুল হুদার ছেলেটির বয়স পাঁচ বছর এবং তার ছোট বোন বা মেয়েটির বয়স আড়াই বছর।
৩৮. আব্বুকে ছোট মামার মতো দেখাচ্ছে- এই রায়টি কে দিয়েছিল?
ক. আড়াই বছরের মেয়ে
খ. আসমা
গ. মিন্টুর ছেলে
ঘ. পাঁচ বছরের ছেলে
উত্তর: ঘ. পাঁচ বছরের ছেলে
ব্যাখ্যা: পাঁচ বছরের অবুঝ ছেলেটিই ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রেইনকোট পরিহিত বাবাকে দেখে প্রথম ঘোষণা দেয় যে তাকে ছোট মামার মতো দেখাচ্ছে।
৩৯. ড্রেসিং টেবিলের সামনে নিজের নতুন রূপ দেখে নুরুল হুদার মনের অবস্থা কেমন হয়?
ক. নতুন রূপে ভ্যাবাচেকা খায়
খ. চমকে ওঠে
গ. আনন্দিত হয়
ঘ. নিজেকে军事 মনে করে
উত্তর: ক. নতুন রূপে ভ্যাবাচেকা খায়
ব্যাখ্যা: রেইনকোটের প্রভাবে নিজের ভেতরে হুট করে এক অচেনা তেজ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করে নুরুল হুদা আয়নার সামনে নিজেকে দেখে কিছুটা থতমত বা ভ্যাবাচেকা খেয়ে যান।
৪০. ‘সাবভার্সিভ অ্যাকটিভিটিজের সঙ্গে তারা সামহাউ অর আদার ইন্ভলভ্ড” উক্তিটি কার?
ক. মেজরের
খ. মিলিটারির
গ. প্রিন্সিপালের
ঘ. ইসহাকের
উত্তর: গ. প্রিন্সিপালের
ব্যাখ্যা: কলেজের রসায়ন ও ভূগোলের শিক্ষকরা কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রবিরোধী বা সাবভার্সিভ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত—পাকিস্তানি মেজরের কাছে এই নালিশ বা উক্তিটি করেছিল দালালি করা প্রিন্সিপাল।
৪১. নুরুল হুদা কোনগুলো থেকে শত হাত দূরে?
ক. মিসক্রিয়ান্টদের সহায়তা করা
খ. মিন্টুর সাথে যোগাযোগ রাখা
গ. সাবসার্ভিস অ্যাকটিভিটিজ
ঘ. কলেজের দেয়াল ঘেঁষে বোমা ফাটানো
উত্তর: গ. সাবসার্ভিস অ্যাকটিভিটিজ
ব্যাখ্যা: নুরুল হুদা স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ও ভীরু প্রকৃতির লোক হওয়ায় যে কোনো ধরনের গোলমেলে বা সাবভার্সিভ (রাষ্ট্রবিরোধী) অ্যাকটিভিটিজ থেকে শত হাত দূরে থাকতেন।
৪২. ফিরে এসে দেশের ভিতরে মিন্টু কী করে?
ক. দেশে ত্রাণ বিতরণ করে
খ. মিলিটারিদের সাথে বৈঠক করে
গ. দমাদম মিলিটারি মারে
ঘ. বোনের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে
উত্তর: গ. দমাদম মিলিটারি মারে
ব্যাখ্যা: ট্রেনিং শেষ করে গেরিলা হিসেবে দেশে বা ঢাকায় ফিরে এসে মিন্টু তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে যেখানেই পারছে সুযোগ বুঝে ধমাধম বা দমাদম পাকিস্তানি মিলিটারি খতম করছে।
৪৩. “তাতে আর দুলাভাইয়ের দোষটা কোথায়?” এখানে কার দুলাভাইয়ের কথা বলা হয়েছে?
ক. প্রিন্সিপ্যালের
খ. মিন্টুর
গ. ইসহাকের
ঘ. ওয়েলডিং ওয়ার্কশপের মালিকের
উত্তর: খ. মিন্টুর
ব্যাখ্যা: শ্যালক মিন্টু নিজের ইচ্ছায় যুদ্ধ করছে এবং নিজের রেইনকোট আপার বাসায় রেখে গেছে, এতে নিরীহ দুলাভাই নুরুল হুদার কোনো অপরাধ বা দোষ নেই—এটাই আসমা বলছিল।
৪৪. ‘রেইনকোট’ গল্পে ব্যবহৃত দ্বিরুক্তি শব্দযুগল কোনটি?
ক. দমদম, টপটপ
খ. দমাদম, চুপচাপ
গ. দমাদম, টপাটপ
ঘ. দমাদম, হেঁ হেঁ
উত্তর: গ. দমাদম, টপাটপ
ব্যাখ্যা: গল্পটিতে মডিফাইড দ্বিরুক্তি শব্দ হিসেবে ‘দমাদম’ (মিলিটারি মারা) এবং ‘টপাটপ’ (বৃষ্টির ফোঁটা বা কথা বলা) শব্দযুগলের সার্থক ব্যবহার দেখা যায়।
৪৫. ‘টু শব্দটি না করা’ বাগধারাটির অর্থ কী?
ক. চুপচাপ লুকিয়ে থাকা
খ. প্রচন্ড আঘাতের শব্দ
গ. কোনো প্রতিবাদ না করা
ঘ. নীরব থাকা
উত্তর: গ. কোনো প্রতিবাদ না করা
ব্যাখ্যা: রেইনকোটের জাদুকরী সাহসে নুরুল হুদা মিলিটারির অমানুষিক নির্যাতন ও চাবুকের আঘাতের মুখেও উফ বা কোনো প্রকার মিনতি কিংবা প্রতিবাদ তথা ‘টু শব্দটি’ করেননি।
৪৬. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার কোথায়?
ক. মিলিটারির ক্যাম্পের দেওয়াল ঘেঁষে
খ. কলেজের দেয়াল ঘেঁষে
গ. ইসহাকের ঘরের দেয়াল ঘেঁষে
ঘ. মিসক্রিয়ান্টদের ঘাঁটির কাছে
উত্তর: খ. কলেজের দেয়াল ঘেঁষে
ব্যাখ্যা: প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারটি ঢাকা কলেজের সীমানা বা মূল দেয়াল ঘেঁষেই ভেতরের চত্বরে অবস্থিত ছিল।
৪৭. মিলিটারি ক্যাম্প কোথায়?
ক. কলেজের দেয়াল ঘেঁষে
খ. মিসক্রিয়ান্টদের ঘাঁটির অদূরে
গ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের পাশে
ঘ. ইসহাকের বাড়ির পাশে
উত্তর: গ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের পাশে
ব্যাখ্যা: পাকিস্তানি হানাদারেরা কলেজের জিমনেশিয়াম ও প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের ঠিক পাশেই তাদের প্রধান ক্যাম্প স্থাপন করেছিল।
৪৮. ছেলেরা কলেজে আসে না কেন?
ক. সব ক্লাস বন্ধ বলে
খ. কলেজে এলে মিলিটারি ধরে নিয়ে যাবে বলে
গ. প্রিন্সিপালের কোয়ার্টারের পাশে
ঘ. ইসহাকের বাড়ির পাশে
উত্তর: খ. কলেজে এলে মিলিটারি ধরে নিয়ে যাবে বলে
ব্যাখ্যা: অবরুদ্ধ ঢাকায় ক্যাম্পের কারণে যেকোনো সময় পাকিস্তানি আর্মিরা তরুণ ছাত্রদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার বা মেরে ফেলত, তাই ভয়ে ছেলেরা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল।
৪৯. ক্লাস বন্ধ থাকলেও মাষ্টারদের কলেজে আসতে হয় কেন?
ক. গোপন পরামর্শের জন্য
খ. হাজিরা দিতে হয় বলে
গ. প্রাইভেট পড়াতে
ঘ. মিলিটারিদের সাথে আঁতাত করতে
উত্তর: খ. হাজিরা দিতে হয় বলে
ব্যাখ্যা: পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানোর এক অভিনব চক্রান্ত হিসেবে ক্লাসে কোনো ছাত্র না থাকলেও শিক্ষকদের প্রতিদিন নিয়ম করে কলেজে এসে জোরপূর্বক হাজিরা খাতায় সই করতে হতো।
৫০. নুরুল হুদার কলিগরা কোথায় বসে ফিসফিস করে?
ক. প্রিন্সিপালের রুমে
খ. স্টাফ রুমে
গ. মিলিটারির সামনে
ঘ. ক্লাসরুমে
উত্তর: খ. স্টাফ রুমে
ব্যাখ্যা: কলেজের প্রফেসরেরা মিলিটারির ভয়ে সবসময় আতঙ্কিত থাকতেন এবং স্টাফ রুমে বসে চারদিকের পরিস্থিতি নিয়ে খুব নিচু স্বরে বা ফিসফিস করে কথা বলতেন।