100+ মাসি পিসি গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর | Masi Pisi Golper MCQ 2026

মাসি পিসি গল্পের MCQ শিক্ষার্থীদের গল্পের কাহিনি, চরিত্র, মূলভাব ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সহজে বুঝতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। নিয়মিত অনুশীলন করলে বিষয়টি আরও ভালোভাবে আয়ত্ত করা যায়।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাসি-পিসি গল্পটি মূলত গ্রামীণ সমাজের দুজন অসহায় অথচ আত্মপ্রত্যয়ী নারীর টিকে থাকার লড়াই এবং মাতৃত্বের গভীর মমত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে রচিত। গল্পের মূলভাব আবর্তিত হয়েছে পিতৃহীন ও স্বামী-কর্তৃক নির্যাতিত তরুণী ‘আহ্লাদি’ এবং তাকে আশ্রয় দেওয়া তার দুই বিধবা মাসি ও পিসির জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে।

তৎকালীন পুরুষশাসিত, লোভী এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজে নারীদের যেখানে অত্যন্ত দুর্বল ও পরনির্ভরশীল ভাবা হতো, সেখানে মাসি ও পিসি সমস্ত সামাজিক প্রতিকূলতা, দারিদ্র্য এবং কুৎসাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ায়। তারা কেবল বেঁচে থাকার জন্য শালতি বেয়ে সবজি বিক্রির মতো কঠিন পেশাই বেছে নেয়নি, বরং নিজেদের একমাত্র পরম স্নেহের পাত্রী আহ্লাদিকে তার অত্যাচারী স্বামী জগু এবং সমাজের কুচক্রী শকুনিদের হাত থেকে রক্ষা করতে একটুও পিছু হঠেনি।

গল্পে একদিকে যেমন প্রকাশ পেয়েছে গ্রামীণ নারীদের সীমাহীন কষ্ট ও লাঞ্ছনার চিত্র, অন্যদিকে তেমনি ফুটে উঠেছে সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে নারীত্বের এক অসাধারণ ও অপরাজেয় রূপ। শেষপর্যন্ত, নিজেদের অস্তিত্ব ও সম্ভ্রম রক্ষায় মাসি-পিসির দা-বঁটি হাতে নিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি কেবল একটি পারিবারিক গল্প থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে শোষণের বিরুদ্ধে নারী জাগরণ, সংহতি এবং অদম্য মানবিক সাহসের এক চিরন্তন দলিল।

মাসি পিসি গল্পের MCQ উত্তর  

১. মানিক বন্দোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?
ক. মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর
খ. বিহারের পালামৌ
গ. আসামের কাছাড়
ঘ. বিহারের সাঁওতাল পরগনা
উত্তর: ঘ. বিহারের সাঁওতাল পরগনা
ব্যাখ্যা: কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালের ১৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকায় জন্মগ্রহণ করেন।

২. ‘তাঁর আসল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।’ মানিক তাঁর-
ক. ডাকনাম
খ. বংশীয় নাম
গ. পদবি
ঘ. ছদ্মনাম
উত্তর: ক. ডাকনাম
ব্যাখ্যা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত বা অফিশিয়াল নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও তাঁর ডাকনাম ‘মানিক’ নামেই তিনি সাহিত্যজগতে অমর হয়ে আছেন।

৩. বিক্রমপুর অঞ্চলটি কোন জেলায় অবস্থিত?
ক. নারায়ণগঞ্জ
খ. মুন্সিগঞ্জ
গ. মানিকগঞ্জ
ঘ. নরসিংদী
উত্তর: খ. মুন্সিগঞ্জ
ব্যাখ্যা: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকার বিক্রমপুর অঞ্চলের মালপদিয়া গ্রামে, যা বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্গত।

৪. জননী, চিহ্ন এগুলো কী?
ক. গল্পগ্রন্থ
খ. প্রবন্ধ সংগ্রহ
গ. উপন্যাস
ঘ. নাটক
উত্তর: গ. উপন্যাস
ব্যাখ্যা: ‘জননী’ (১৯৩৫) এবং ‘চিহ্ন’ (১৯৪৭) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি বহুল পঠিত ও বিখ্যাত উপন্যাস।

৫. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মারা যান?
ক. ১৯৫৬
খ. ১৯৫৭
গ. ১৯৫৮
ঘ. ১৯৬০
উত্তর: ক. ১৯৫৬
ব্যাখ্যা: এই মহান কথাসাহিত্যিক ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

৬. ‘১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর’ সময়ের দিক-
ক. উনিশ শতকের মাঝামাঝি
খ. বিশ শতকের সূচনা
গ. বিশ শতকের মাঝামাঝি
ঘ. বিশ শতকের সমাপ্তি
উত্তর: গ. বিশ শতকের মাঝামাঝি
ব্যাখ্যা: ১৯৫৬ সালটি কালপঞ্জি অনুযায়ী বিংশ বা বিশ শতকের ঠিক মাঝামাঝি বা মধ্যভাগ সময়কে নির্দেশ করে।

৭. ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি কে লিখেছেন?
ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ঘ. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
উত্তর: ক. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: গ্রামীণ নারীদের জীবনসংগ্রাম ও মনস্তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে রচিত ‘মাসি-পিসি’ গল্পটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অসামান্য সৃষ্টি।

৮. খালে কাদা, ভাঙা ইটপাটকেল আর ওজনে ভারী আবর্জনা বেরিয়ে পড়ে গেছে কেন?
ক. জোয়ারের জন্য
খ. ভাটার জন্য
গ. সেচের কারণে পানি কমে গেছে বলে
ঘ. খালে বাঁধ দিয়ে জল শুকানোর জন্য
উত্তর: খ. ভাটার জন্য
ব্যাখ্যা: নদীতে বা খালে ভাটা পড়ার কারণে জল কমে একদম নিচে নেমে যাওয়ায় ভেতরের কাদা, ইট ও আবর্জনা প্রকাশ পেয়ে গিয়েছিল।

৯. সালতি থেকে ওদের মাথায় খড় তুলে দিচ্ছে কত জন?
ক. এক জন
খ. দুই জন
গ. তিন জন
ঘ. চার জন
উত্তর: খ. দুই জন
ব্যাখ্যা: খড় বোঝাই সালতি (নৌকা) থেকে দুজন মানুষ খড়গুলো মাথায় তুলে আনছিল, যা মাসি-পিসি ঘাট থেকে দূর থেকে লক্ষ্য করছিল।

১০. কৈলেশের মাথার চুল কেমন ছিল?
ক. কদমছাঁটা শুষ্ক
খ. বাটিছাঁটা রুক্ষ
গ. কদমছাঁটা রুক্ষ
ঘ. আধাপাকা রুক্ষ
উত্তর: গ. কদমছাঁটা রুক্ষ
ব্যাখ্যা: গল্পের চরিত্র কৈলাশের চেহারার বর্ণনায় লেখক তার চুলকে ‘কদমছাঁটা রুক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১১. মাসি-পিসির কাপড়ের আঁচল কোমরে বাঁধা ছিল-
ক. তরকারি বিক্রি করছিল বলে
খ. সালতির লগি ঠেলছিল বলে
গ. কানাইয়ের সাথে ঝগড়া করছিল বলে
ঘ. ঘড় থেকে পানি আনছিল বলে
উত্তর: খ. সালতির লগি ঠেলছিল বলে
ব্যাখ্যা: সালতি বা সরু নৌকাটি জলের মধ্যে লগি দিয়ে ঠেলে এগিয়ে নেওয়ার সুবিধার জন্য তারা কাপড়ের আঁচল কোমরে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিল।

See also  বিলাসী গল্পের MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Bilashi Golper MCQ 2026

১২. প্রৌঢ়া বিধবা মানে-
ক. প্রবীণ স্মামীহীন নারী
খ. স্বামীহীন তেজস্বী নারী
গ. চল্লিশোর্ধ্ব স্বামীহীন নারী
ঘ. অল্পবয়সী স্বামীহীন নারী
উত্তর: গ. চল্লিশোর্ধ্ব স্বামীহীন নারী
ব্যাখ্যা: ‘প্রৌঢ়া’ বলতে মধ্যবয়স বা চল্লিশ পার হওয়া বয়সকে বোঝায় এবং ‘বিধবা’ অর্থ স্বামীহীন, তাই এর অর্থ চল্লিশোর্ধ্ব স্বামীহীন নারী।

১৩. নৌকা দিয়ে আসার সময় আহ্লাদির পরনে কী ছিল?
ক. নকশা পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি
খ. নকশাহীন দামি রঙিন শাড়ি
গ. রঙিন পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি
ঘ. নকশা পাড়ের সস্তা নীল শাড়ি
উত্তর: গ. রঙিন পাড়ের সস্তা সাদা শাড়ি
ব্যাখ্যা: আহ্লাদি যখন মাসি-পিসির সাথে নৌকায় আসছিল, তখন তার পরনে একখানা রঙিন পাড় দেওয়া সস্তা দামের সাদা কাপড় ছিল।

১৪. কার গলা ঝরঝরে আওয়াজ একটু মোটা?
ক. মাসির
খ. পিসির
গ. জগুর
ঘ. মাসি-পিসির
উত্তর: খ. পিসির
ব্যাখ্যা: পিসির গলার স্বরের বৈশিষ্ট্য ছিল তা বেশ ঝরঝরে এবং সামান্য মোটা বা গম্ভীর ঘরানার।

১৫. মাসি-পিসি দুজনে সালতির দুমাথায় থাকলে কৈলাশের খবরটা বলা সম্ভব নয় কেন?
ক. খবরটা গোপন বলে
খ. আহ্লাদি শুনে ফেলবে বলে
গ. তাদের দূরত্ব অনেক বেশি বলে
ঘ. কৈলাশকে জোরে বলতে হবে বলে
উত্তর: খ. আহ্লাদি শুনে ফেলবে বলে
ব্যাখ্যা: কৈলাশ জগুর পাঠানো যে গোপন প্রস্তাব বা খবর এনেছিল, তা মাসি-পিসির সালতির মাঝখানে বসে থাকা আহ্লাদির কানে যাক তা সে চায়নি।

十六. কৈলাশের কথা আহ্লাদি কান পেতে শোনে কেন?
ক. তার স্বামী খবর পাঠিয়েছে বলে
খ. স্বামীর কাছে সব ফাঁস করে দেওয়ার জন্য
গ. স্বামীর খবর জানতে কৌতুহলি বলে
ঘ. কৈলাশ তার স্বামীর বন্ধু বলে
উত্তর: ক. তার স্বামী খবর পাঠিয়েছে বলে
ব্যাখ্যা: কৈলাশ আহ্লাদির স্বামী জগুর পক্ষ থেকে কথা বলছিল, তাই নিজের অবচেতন মন থেকেই সে স্বামীর খবরের দিকে কান পেতেছিল।

১৭. ‘মাসি-পিসি’ গল্পে চায়ের দোকান কোথায় অবস্থিত?
ক. শহরের বাজারে
খ. গ্রামের হাটে
গ. পুলের কাছে
ঘ. কাছারিবাড়ির পথে
উত্তর: গ. পুলের কাছে
ব্যাখ্যা: খালের ওপর থাকা পুল বা ব্রিজের পাশেই কৈলাশদের চায়ের দোকানটি অবস্থিত ছিল।

১৮. নিজের যেচে আহ্লাদিকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠানোর কথা কে বলেছিল?
ক. জগু
খ. কৈলাশ
গ. দারোগাবাবু
ঘ. বুড়ো রহমান
উত্তর: খ. কৈলাশ
ব্যাখ্যা: কৈলাশ নিজেই মাসি-পিসির কাছে এসে ভালোমানুষি দেখিয়ে আহ্লাদিকে তার শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার ওকালতি বা সুপারিশ করছিল।

১৯. বুড়ো রহমান ছলছল দৃষ্টিতে আহ্লাদির দিকে তাকায় কেন?
ক. আহ্লাদির দুঃখে সমব্যথী হয়ে
খ. মমতাবোধে তাড়িত হয়ে
গ. আহ্লাদিক দেখে মেয়ের কথা মনে পড়ে বলে
উত্তর: গ. আহ্লাদিক দেখে মেয়ের কথা মনে পড়ে বলে
ব্যাখ্যা: রহমানের নিজের মেয়েটিও শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে মারা গেছে, তাই আহ্লাদির করুণ দশা দেখে তার নিজের মেয়ের স্মৃতি মনে পড়ে চোখ ছলছল করে ওঠে।

২০. কী বিক্রি করে মাসি-পিসি জগুকে ভালো-মন্দ দশটা জিনিস খাইয়েছে?
ক. সালতি
খ. গরু
গ. তরকারি
ঘ. ছাগল
উত্তর: গ. তরকারি
ব্যাখ্যা: জগু যখন আগে তাদের বাড়ি আসত, তখন মাসি-পিসি নিজেদের কষ্টার্জিত তরকারি বিক্রির পয়সা দিয়ে তাকে ভালো-মন্দ রেঁধে খাওয়াত।

২১. বুড়ো রহমানের মেয়েটা কত দিন আগে শ্বশুরবাড়িতে মারা গেছে?
ক. অল্পদিন
খ. কিছুদিন
গ. অনেকদিন
ঘ. সম্প্রতি
উত্তর: ঘ. সম্প্রতি
ব্যাখ্যা: বুড়ো রহমানের মেয়েটি খুব ‘সম্প্রতি’ বা অল্প কিছুদিন আগেই শ্বশুরবাড়ির নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়ে মারা গিয়েছিল।

২২. বুড়ো রহমানের মেয়েটা কেন শ্বশুড়বাড়িতে যেতে চায়নি?
ক. অল্পবয়স্ক অবুঝ ছিল বলে
খ. শ্বশুরবাড়িতে গেলে বাবার কথা মনে পড়ত বলে
গ. শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে
ঘ. আহ্লাদির মতো পরিণতি হবে ভেবে
উত্তর: গ. শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের ভয়ে
ব্যাখ্যা: রহমানের মেয়েটি সেখানে গেলে মারধর ও অত্যাচার করা হতো বলেই শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার নাম শুনলে কান্নাকাটি করত ও যেতে চাইত না।

২৩. জগু কিসের জন্য মামলা করবে বলে কৈলাশের কাছে জানিয়েছে?
ক. সম্পত্তির জন্য
খ. বউ নেওয়ার জন্য
গ. মাসি-পিসির অন্যায় দখলদারিত্ব অবসানের জন্য
ঘ. জায়গা-জমির জন্য
উত্তর: খ. বউ নেওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা: জগু হুমকি দিয়েছে যে মাসি-পিসি যদি আহ্লাদিকে ভালোয় ভালোয় না ছাড়ে, তবে সে বউকে আটকে রাখার অপরাধে আদালতে মামলা করবে।

২৪. কৈলাশের হুমকি শুনে মাসি-পিসি মুখ চাওয়া-চাওয়ি করল কেন?
ক. নিজেদের ভাবনার আদান-প্রদান করতে
খ. কৈলাশকে শায়েস্তা করতে
গ. জগুকে শায়েস্তা করতে
ঘ. আহ্লাদির জন্য চিন্তিত হয়ে
উত্তর: ক. নিজেদের ভাবনার আদান-প্রদান করতে
ব্যাখ্যা: জগুর মামলার ও জোর করে নেওয়ার হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে মাসি ও পিসি নীরব দৃষ্টিতে নিজেদের ভেতরের সাহসের আদান-প্রদান করে নিচ্ছিল।

২৫. আহ্লাদির বাবা, মা, ভাই কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়?
ক. যক্ষা
খ. cholera
গ. ডায়রিয়া
ঘ. আমাশয়
উত্তর: খ. cholera
ব্যাখ্যা: মহামারী বা কলেরার (ওলাওঠা) প্রকোপে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আহ্লাদির বাবা, মা ও ভাই মারা যান।

See also  80+ রেইনকোট গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর | Rainkot Golper MCQ 2026

২৬. মাসি-পিসি আহ্লাদির বাবার আশ্রয়ে মাথা গুঁজে আছে কত দিন?
ক. তিন বছর
খ. পাঁচ বছর
গ. দশ বছর
ঘ. অনেক দিন
উত্তর: ঘ. অনেক দিন
ব্যাখ্যা: নিজেদের স্বামীদের মৃত্যুর পর আশ্রয়হীন হয়ে মাসি ও পিসি দুজনেই অনেক দিন ধরে আহ্লাদির বাবার বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে ছিল।

২৭. “দুর ছাই সয়ে আর কুড়িয়ে পেতে খেয়ে।” এর মানে-
ক. কুড়িয়ে কুড়িয়ে খাওয়া
খ. চুড়ান্ত অবহেলিত দিনযাপন করা
গ. গালাগাল আর কুড়িয়ে খেয়ে দিনযাপন
ঘ. দুঃখ-کষ্টে দিনযাপন করা
উত্তর: খ. চুড়ান্ত অবহেলিত দিনযাপন করা
ব্যাখ্যা: সমাজে বিধবা ও অসহায় নারীদের যেভাবে চরম অবহেলা ও লাঞ্ছনা সহ্য করে বেঁচে থাকতে হয়, তাকেই এই বাক্যাংশে বোঝানো হয়েছে।

২৮. বছরের পর বছর ধরে মাসি-পিসি কিছু টাকা পুঁজি করেছিল কেন?
ক. আহ্লদিকে দেওয়ার জন্য
খ. দুঃসময়ে খরচের জন্য
গ. দুর্ভিক্ষে খরচের জন্য
ঘ. আহ্লাদির পিতাকে দেওয়ার জন্য
উত্তর: খ. দুঃসময়ে খরচের জন্য
ব্যাখ্যা: জীবনসংগ্রামের কঠিন দিনগুলোতে ভবিষ্যতের কোনো বড় বিপদ বা দুঃসময়ে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে তারা ফোঁটা ফোঁটা করে কিছু টাকা জমিয়েছিল।

২৯. দুর্ভিক্ষের সময়ে মাসি-পিসিদের থাকাটা বরাদ্দ রেখে খাওয়াটা ছাঁটাই করার কারণ-
ক. অর্থনৈতিক সংকট
খ. সামাজিক সংকট
গ. পারিবারিক সংকট
ঘ. রাজনৈতিক সংকট
উত্তর: ক. অর্থনৈতিক সংকট
ব্যাখ্যা: পঞ্চাশের মন্বন্তর বা দুর্ভিক্ষের চরম খাদ্যাভাব ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তারা খাওয়া কমিয়ে দিয়ে কোনোমতে টিকে থাকার চেষ্টা করছিল।

মাসি পিসি গল্পের mcq প্রশ্নের উত্তর

৩০. জগুর লাথির চোটে মরমর আহ্লাদি এসে বাপের বাড়ি হাজির হয়-
ক. দুর্ভিক্ষের আগে
খ. মহামারীর সময়ে
গ. দুর্ভিক্ষের সময়ে
ঘ. মহামারীর পরে
উত্তর: গ. দুর্ভিক্ষের সময়ে
ব্যাখ্যা: যখন চারদিকে চরম দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যাভাব চলছিল, ঠিক সেই কঠিন সময়েই জগু আহ্লাদিকে অমানুষিক মারধর করে তাড়িয়ে দেয় বা বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

৩১. আহ্লাদি বাবা গলা কেটে রক্ত দিয়ে মাসি-পিসির ঋণ শোধ দিতে পারলেও অন্ন জোগান দিতে পারবে না কেন?
ক. অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই বলে
খ. তার চাকরি চলে গেছে বলে
গ. মহামারীতে আক্রান্ত বলে
ঘ. আহ্লাদির মা রাগ করবে বলে
উত্তর: ক. অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই বলে
ব্যাখ্যা: আহ্লাদির বাবা জীবিত থাকাকালীন অত্যন্ত গরিব ও অভাবী ছিলেন, তাই তাঁর পক্ষে মাসি-পিসির আশ্রয়ের ঋণ শোধ করার মতো অন্ন বা খাবার দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না।

৩২. মাসি-পিসিরা বাজারে তরিতরকারি বিক্রি করতে যায়-
ক. দুটো পয়সা উপার্জনের জন্য
খ. টাকা জমানোর জন্য
গ. আহ্লাদির বাবাকে ভরণপোষণের খরচ দেওয়ার জন্য
ঘ. অসুস্থ আহ্লাদিকে সুস্থ করার জন্য
উত্তর: ক. দুটো পয়সা উপার্জনের জন্য
ব্যাখ্যা: আহ্লাদির পরিবারের সবাই মারা যাওয়ার পর নিজেদের ও আহ্লাদির অন্ন জোগাতে এবং বেঁচে থাকার জন্য তারা সবজি বিক্রির পেশা বেছে নেয়।

৩৩. মাসি-পিসিরা সালতি বেয়ে কী বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে যায়?
ক. খেতের তরিতরকারি
খ. গেরস্তের বাড়তি শাকসবজি-ফলমূল
গ. গাঁয়ের বাবুদের বাগানের কলা
ঘ. গেরস্ত বাড়ির সংগৃহীত ডিম, হাঁস-মুরগি
উত্তর: খ. গেরস্তের বাড়তি শাকসবজি-ফলমূল
ব্যাখ্যা: তারা বিভিন্ন গেরস্ত বাড়ি বা বাগান থেকে উদ্বৃত্ত বা বাড়তি শাকসবজি ও ফলমূল কম দামে সংগ্রহ করে বাজারে নিয়ে বিক্রি করত।

৩৪. বাবু বাসিন্দারা মাসি-পিসির কাছে বাগানের জিনিস বিক্রি করতে দেয়-
ক. নগদ টাকার জন্য
খ. নগদ পয়সার জন্য
গ. বাড়তি আয়ের জন্য
ঘ. উচ্চমূল্যে বিক্রি জন্য
উত্তর: খ. নগদ পয়সার জন্য
ব্যাখ্যা: গ্রামের বাবুরা ঘরে বসে সহজে নগদ কিছু পয়সা বা টাকা পাওয়ার লোভেই নিজেদের বাগানের ফলমূল মাসি-পিসির কাছে পাইকারি বিক্রি করে দিত।

৩৫. মাসি-পিসির মধ্যে ঐকান্তিক ভাব থাকার কারণ-
ক. তাদের চিন্তাভাবনা এক
খ. তাদের স্বভাব একই প্রকৃতির
গ. তাদের চেহারা এক
ঘ. তাদের বয়স ও অবস্থা এক
উত্তর: ঘ. তাদের বয়স ও অবস্থা এক
ব্যাখ্যা: মাসি ও পিসি দুজনেরই বয়স প্রায় কাছাকাছি (প্রৌঢ়া) এবং দুজনেই বিধবা ও অসহায় অবস্থায় থাকায় তাদের ভাগ্যের মিল তাদের মনে ঐকান্তিক ভাব তৈরি করেছিল।

৩৬. আগে কারণে-অকারণে মাসির সঙ্গে পিসির কী বেধে যেত?
ক. কোন্দল
খ. ঝগড়া
গ. রেষারেষি
ঘ. হিংসা
উত্তর: খ. ঝগড়া
ব্যাখ্যা: আহ্লাদি ঘরে আসার আগে, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার সংকীর্ণতায় মাসি ও পিসির মধ্যে কারণে-অকারণে প্রায়ই কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া বেধে যেত।

৩৭. মাসির ওপর পিসির একটা অবজ্ঞা-অবহেলার ভাব থাকার কারণ-
ক. মাসিই প্রথমে তরকারি বিক্রির প্রস্তাব করেছে
খ. পিসির চেয়ে মাসিই আহ্লাদিকে বেশি ভালোবাসে
গ. দুর্ভিক্ষের সময় মাসিই তাদের পরিবারকে বেশি সাহায্য করেছে
ঘ. মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে
উত্তর: ঘ. মাসি উড়ে এসে জুড়ে বসেছে
ব্যাখ্যা: বাড়িটি ছিল পিসির ভাইয়ের (আহ্লাদির বাবার), তাই পিসি নিজেকে বাড়ির আসল হকদার মনে করত এবং বোন বা মাসিকে ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’ বহিরাগত ভাবত।

৩৮. পিসির কোন বিষয়টি মাসির সবচেয়ে অসহ্য লাগত?
ক. হিংসা-দ্বেষ
খ. অহংকার-খোঁচা
গ. সন্দেহ-অবিশ্বাস
ঘ. রেষারেষি-কোন্দল
উত্তর: খ. অহংকার-খোঁচা
ব্যাখ্যা: পিসি যেহেতু বাপের বাড়ির মালিকানা নিয়ে অহংকার করত এবং মাসিকে কথার খোঁচা দিত, সেই খোঁচামূলক আচরণটি মাসির সহ্য হতো না।

See also  অপরিচিতা গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর HSC পরীক্ষা 2026

৩৯. আহ্লাদি ঘরে এসে পড়ায় মাসি-পিসির মধ্যকার মিল কী হলো?
ক. জমজমাট
খ. সুদৃঢ়
গ. শক্ত
ঘ. ভালো
উত্তর: খ. সুদৃঢ়
ব্যাখ্যা: আহ্লাদির মতো একটি অসহায় মেয়েকে রক্ষা ও লালন-পালন করার অভিন্ন দায়িত্ব কাঁধে আসায় মাসি-পিসির পুরোনো ঝগড়া মিটে গিয়ে তাদের বন্ধন সুদৃঢ় হয়।

৪০. মাসি-পিসির ওপর আহ্লাদির সব দায়িত্ব কেন?
ক. মা-বাবা নেই বলে
খ. তারা আহ্লাদিদের বাড়ি থাকে বলে
গ. আহ্লাদির বাবা তাদের খেতে দেয় বলে
ঘ. জগু আহ্লাদিকে নির্যাতন করে বলে
উত্তর: ক. মা-বাবা নেই বলে
ব্যাখ্যা: আহ্লাদির মা, বাবা বা ভাই কেউ বেঁচে না থাকায় সে সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল, তাই মাসি-পিসিই তার একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়।

৪১. আহ্লাদির বাবার বেশিরভাগ সম্পদ কার দখলে গেছে?
ক. জগুর
খ. গোকুলের
গ. দারোগা বাবুর
ঘ. বড় বাবুর
উত্তর: খ. গোকুলের
ব্যাখ্যা: আহ্লাদির বাবার মৃত্যুর পর গ্রামের প্রভাবশালী ও শোষক গোকুল অন্যায়ভাবে তাদের বেশিরভাগ জমিজমা ও সম্পদ দখল করে নিয়েছিল।

৪২. আহ্লাদিকে একা রেখে কোথাও যেতে মাসি-পিসির সাহস হয় না কেন?
ক. একা পেয়ে কেউ তার ক্ষতি করবে ভেবে
খ. জগু তুলে নিয়ে যাবে ভেবে
গ. একা থাকতে আহ্লাদি ভয় পায় বলে
ঘ. তারা আহ্লাদিকে অনেক ভালোবাসে বলে
উত্তর: ক. একা পেয়ে কেউ তার ক্ষতি করবে ভেবে
ব্যাখ্যা: গ্রামের কিছু লম্পট ও কুচক্রী লোক (যেমন গোকুলের দল) আহ্লাদির ওপর কুনজর দিয়েছিল, তাই তাকে একা রেখে যাওয়ার ভরসা তারা পেত না।

৪৩. “মাথায় তুলে রাখা” মানে-
ক. মাথার মধ্যে মারা
খ. খুব আদর-যত্ন করা
গ. বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া
ঘ. ঘৃণা-অবহেলা করা
উত্তর: খ. খুব আদর-যত্ন করা
ব্যাখ্যা: কোনো কিছুকে বা কাউকে ‘মাথায় তুলে রাখা’ একটি বাগধারা, যার অর্থ হলো অত্যন্ত স্নেহ, আদর ও অতি যতন দিয়ে আগলে রাখা।

৪৪. বাইরে দিন কাটলেও আহ্লাদির কোনো পরিশ্রম হয়নি কেন?
ক. শুয়ে-বসে ছিল বলে
খ. মাসি-পিসি কাজ করতে দেয়নি বলে
গ. মাসি-পিসি নিজেরাই নৌকা চালিয়েছে বলে
ঘ. আহ্লাদি নিজে থেকে কোনো কাজ করতে চায়নি বলে
উত্তর: খ. মাসি-পিসি কাজ করতে দেয়নি বলে
ব্যাখ্যা: মাসি ও পিসি আহ্লাদিকে অত্যন্ত ভালোবাসত এবং গর্ভবতী অবস্থায় তার শরীরের ক্ষতি হবে ভেবে নিজেরা সব খাটুনি খাটলেও তাকে কোনো পরিশ্রম করতে দেয়নি।

৪৫. আহ্লাদির নিজেকে ছ্যাঁচড়া, নোংরা, নর্দমার মতো লাগে কেন?
ক. গোকুলের ভয়ে
খ. মাসি-পিসির কাছে অনেকে দর হাঁকে বলে
গ. তরিতরকারির মতো তাকে লোকজন কিনতে চায় বলে
ঘ. তার জন্য মাসি-পিসিকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে
উত্তর: ঘ. তার জন্য মাসি-পিসিকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে
ব্যাখ্যা: আহ্লাদি ভাবত যে কেবল তার কারণেই তার দুই বৃদ্ধা মাসি-পিসিকে সমাজের এত অপমান, অবহেলা ও মামলা-হামলার দুর্ভোগ সহ্য করতে হচ্ছে।

৪৬. জগু এলে মাসি-পিসি আহ্লাদিকে আনন্দের অভিনয় করতে শিখিয়ে দিতে চায় কেন?
ক. জামাইকে শান্ত রাখতে
খ. যাতে আহ্লাদিকে না নিতে চায় সেজন্য
গ. জামাইকে গোকুলের বিরুদ্ধে চড়াও হতে
ঘ. জগু যাতে মামলা না করে সেজন্য
উত্তর: ক. জামাইকে শান্ত রাখতে
ব্যাখ্যা: জগু ছিল অত্যন্ত রাগী ও লোভী। সে এলে আহ্লাদি যেন ভয় না পেয়ে হাসিমুখে কথা বলে জামাইকে শান্ত রাখে, সেই কৌশল তারা করতে চেয়েছিল।

৪৭. রান্না সেরে খাওয়ার আয়োজনের সময় বাইরে থেকে কার হাঁক আসে?
ক. দারোগা বাবুর
খ. ওসমান বৈদ্যের
গ. গোকুলের
ঘ. কানাই চৌকিদারের
উত্তর: ঘ. কানাই চৌকিদারের
ব্যাখ্যা: রাতে মাসি-পিসি যখন আহ্লাদিকে নিয়ে খেতে বসবে, ঠিক তখনই বাইরে থেকে কানাই চৌকিদারের গম্ভীর ডাক বা হাঁক শোনা যায়।

৪৮. সরকার বাবুর সঙ্গে মাসি-পিসির ঝগড়া হয়েছে কি নিয়ে?
ক. আহ্লাদির বিয়ে নিয়ে
খ. বাজারের তোলা নিয়ে
গ. তরকারি বিক্রি নিয়ে
ঘ. বাজারে জায়গা দখল নিয়ে
উত্তর: খ. বাজারের তোলা নিয়ে
ব্যাখ্যা: বাজারে অন্যায়ভাবে খাজনা বা বেশি ‘তোলা’ (টাকা) দাবি করার কারণে শোষক সরকার বাবুর সাথে সাহসী মাসি-পিসির তুমুল ঝগড়া হয়েছিল।

৪৯. ডোবার ধারে কাঁঠাল গাছের ছায়ায় কত জন ঘুপটি মেরে বসে আছে?
ক. দুই-তিনজন
খ. তিন-চারজন
গ. চার-পাঁচজন
ঘ. সাত-আটজন
উত্তর: খ. তিন-চারজন
ব্যাখ্যা: কানাই চৌকিদারের সাথে রাতে আহ্লাদিকে জোরপূর্বক অপহরণ বা তুলে নিয়ে যাওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে ৩-৪ জন গুণ্ডা ঘুপটি মেরে লুকিয়ে ছিল।

৫০. বৈদ্য ওসমানেরা ঘুপটি মেরে বসেছিল-
ক. আহ্লাদিকে ধরে নিতে
খ. মাসি-পিসিকে ধরে নিতে
গ. অতর্কিতে হামলা করতে
ঘ. বড় বাবু বলেছিল বলে
উত্তর: ক. আহ্লাদিকে ধরে নিতে
ব্যাখ্যা: গোকুলের প্ররোচনায় বৈদ্য, ওসমান ও কানাইয়ের দল গভীর রাতে ফাঁকা বাড়িতে আহ্লাদিকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার বা অপহরণ করার হীন উদ্দেশ্যে ওত পেতে বসেছিল।

Blogger Profile Info
Profile

Bisshas Prodhan

Hi, I’m an SEO Expert and Bangla blogger who creates simple, helpful content like quotes, captions, and educational articles. I focus on making information easy to understand for everyone. I also use SEO strategies to help websites grow and reach more people online. 🌸 Visit: Amarsikkha.com

Leave a Comment