বিলাসী গল্পের MCQ প্রশ্ন ও উত্তর | Bilashi Golper MCQ 2026

বিলাসী গল্পের MCQ মূলত গল্পকে কেন্দ্র করে শুরু হয়। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বিলাসী’ গল্পটি মূলত জাত-পাত, ধর্মের সংকীর্ণতা ও সামাজিক কুসংস্কারের ঊর্ধ্বে মানবপ্রেমের এক মহিমান্বিত ও করুণ জয়গান। গল্পের মূল চরিত্র উচ্চবর্ণের যুবক মৃত্যুঞ্জয় যখন মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সমাজ-পরিত্যক্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিল, তখন নিচু জাতের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে।

এই নিঃস্বার্থ সেবার সূত্র ধরে তাদের মধ্যে যে গভীর ভালোবাসার জন্ম হয়, তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজ তা সহজে মেনে নেয়নি। স্রেফ জাত রক্ষার অজুহাতে এবং সম্পত্তি লোভী আত্মীয়দের চক্রান্তে এই যুগলের ওপর নেমে আসে অমানুষিক সামাজিক নির্যাতন। সমস্ত অপমান ও প্রতিকূলতা পাশ কাটিয়ে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের সংগ্রামী জীবন বেছে নিলেও সমাজের নিষ্ঠুরতা তাদের পিছু ছাড়েনি।

শেষ পর্যন্ত সাপের কামড়ে মৃত্যুঞ্জয়ের অকাল মৃত্যু এবং সেই শোকে বিলাসীর আত্মহনন তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি ও নির্মমতাকে তীব্রভাবে ফুটিয়ে তোলে। গল্পটি আমাদের এটাই শেখায় যে, সমাজের তৈরি করা কৃত্রিম জাত-প্রথা বা অন্ধ নিয়মের চেয়ে মানুষের ভেতরের খাঁটি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগ অনেক বেশি পবিত্র এবং শক্তিশালী।

বিলাসী গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর 

১. ‘ঘন জঙ্গলের পথ। একটু দেখে পা ফেলে যেয়ো।’ -উক্তিটি কার?
ক. ন্যাড়ার
খ. বিলাসীর
গ. মৃত্যুঞ্জয়ের
ঘ. খুড়ার
উত্তর: খ. বিলাসীর
ব্যাখ্যা: অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখে গভীর রাতে যখন ন্যাড়া নিজের বাড়ি ফিরছিল, তখন পথপ্রদর্শক হিসেবে এসে বিলাসী সাপখোপের ভয়ে ন্যাড়াকে এই সতর্কবাণী বলেছিল।

২. ‘মহত্ত্বের কাহিনি আমাদের অনেক আছে।’ এখানে ‘মহত্ত্ব’ কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
ক. ব্যঙ্গার্থে
খ. প্রশংসাৰ্থে
গ. ক্ষোভার্থে
ঘ. নিন্দার্থে
উত্তর: ক. ব্যঙ্গার্থে
ব্যাখ্যা: লেখক শরৎচন্দ্র এখানে আমাদের সমাজের মানুষের মেকি পরোপকার ও ভণ্ডামিকে উপহাস বা ব্যঙ্গ করতে ‘মহত্ত্ব’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

৩. अनुচ্ছেদের সঙ্গে ‘বিলাসী’ গল্পের যে দিকের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো-
i. নারীর প্রতি নির্যাতন
ii. কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ
iii. গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থা
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: উদ্দীপকের নিলুফাকে গ্রামের মানুষ যেভাবে একঘরে বা বিচার করে বের করে দিতে চায়, তার সাথে বিলাসীর ওপর সামাজিক নির্যাতন, কুসংস্কার ও গ্রামীণ অন্যায় বিচার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।

৪. এই অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, নিলুফা ও বিলাসী উভয়েই-
i. প্রতিবাদী নারীসত্তা
ii. নির্যাতিত নারী
iii. কুসংস্কারের শিকার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা: বিলাসী ও নিলুফা দুজনেই সমাজের অন্ধ কুসংস্কারের শিকার হয়ে নির্যাতিত হয়েছে এবং সমস্ত অন্যায়ের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থেকে প্রতিবাদী সত্তার পরিচয় দিয়েছে।

五. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
খ. ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে
গ. ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে
ঘ. ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে
উত্তর: ক. ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

৬. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. হরিশপুর গ্রামে
খ. লাহিনীপাড়া গ্রামে
গ. দেবানন্দপুর গ্রামে
ঘ. কাঁঠালপাড়া গ্রামে
উত্তর: গ. দেবানন্দপুর গ্রামে
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

৭. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতার নাম কী?
ক. শ্যামাকান্ত চট্টোপাধ্যায়
খ. উপেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
গ. মতিলাল চট্টোপাধ্যায়
ঘ. নীহার রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: গ. মতিলাল চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্রের পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায়। তিনি বহু গল্প-উপন্যাস লেখার চেষ্টা করলেও কোনোটাই শেষ করতে পারেননি।

৮. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মাতার নাম কী?
ক. ভগবতী দেবী
খ. ভুবনমোহিনী দেবী
গ. শ্যামা দেবী
ঘ. সারদা দেবী
উত্তর: খ. ভুবনমোহিনী দেবী
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মায়ের নাম ছিল ভুবনমোহিনী দেবী।

৯. শরৎচন্দ্র বাংলা সাহিত্যের কোন শাখায় সবচেয়ে জনপ্রিয়?
ক. উপন্যাস
খ. ছোটগল্প
গ. নাটক
ঘ. প্রবন্ধ
উত্তর: ক. উপন্যাস
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র তাঁর কালজয়ী উপন্যাসগুলোর (যেমন: দেবদাস, শ্রীকান্ত, চরিত্রহীন) মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক বা ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

১০. শরত্চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত বছর বয়সে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন?
ক. ১৮ বছর
খ. ২১ বছর
গ. ২৩ বছর
ঘ. ২৪ বছর
উত্তর: ঘ. ২৪ বছর
ব্যাখ্যা: যৌবনের শুরুতে এক অলস ও বৈরাগী ঝোঁকের বশে মাত্র ২৪ বছর বয়সে শরৎচন্দ্র ঘর ছেড়ে কিছুদিনের জন্য সন্ন্যাসী সেজেছিলেন।

See also  80+ রেইনকোট গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর | Rainkot Golper MCQ 2026

১১. কোন খ্যাতির কারণে জমিদারের বন্ধু হয়েছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়?
ক. ছোটগল্পকার হিসেবে
খ. সংগীতজ্ঞ হিসেবে
গ. ঔপন্যাসিক হিসেবে
ঘ. আবৃত্তিকার হিসেবে
উত্তর: খ. সংগীতজ্ঞ হিসেবে
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চমৎকার গান গাইতে পারতেন। তাঁর এই সংগীত প্রতিভার কারণে तत्कालीन এক জমিদারের সাথে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল।

১২. সমাজের নিচু তলার মানুষ অপূর্ব মানব-মহিমা নিয়ে চিত্রিত হয়েছে কার উপন্যাসে?
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
খ. জীবনানন্দ দাশ
গ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
ঘ. প্রমথ চৌধুরীর
উত্তর: গ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র তাঁর সাহিত্যে সমাজের অবহেলিত, সুবিধাভোগী ও নিচু তলার মানুষকে অতি দরদ দিয়ে মহিমান্বিত রূপ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

১৩. শরৎচন্দ্রের কৃতিত্ব কোন ক্ষেত্রে?
ক. উচ্চ মধ্যবিত্তের জীবন চিত্রণে
খ. মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবন চিত্রণে
গ. উচ্চবিত্ত শ্রেণির জীবন চিত্রণে
ঘ. অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের জীবন চিত্রণে
উত্তর: ঘ. অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের জীবন চিত্রণে
ব্যাখ্যা: সমাজ যাদের অস্পৃশ্য বা নিচু জাত মনে করত, সেই অন্ত্যজ বা অবহেলিত শ্রেণির মানুষের দুঃখ-বেদনাকে সাহিত্যের মূল বিষয়ে পরিণত করাই ছিল শরৎচন্দ্রের বড় কৃতিত্ব।

১৪. শরৎচন্দ্র রচিত প্রথম মুদ্রিত গল্প কোনটি?
ক. মহেশ
খ. বিলাসী
গ. মন্দির
ঘ. হরিলক্ষ্মী
উত্তর: গ. মন্দির
ব্যাখ্যা: ১৯০৩ সালে কুন্তলীন পত্রিকার গল্প প্রতিযোগিতার জন্য শরৎচন্দ্র তাঁর ‘মন্দির’ গল্পটি প্রথম মুদ্রণ বা প্রকাশ করেছিলেন।

১৫. শরৎচন্দ্র কোন গল্পের জন্য ‘কুন্তলীন’ পুরস্কার পেয়েছিলেন?
ক. মহেশ
খ. ছোটোগল্প
গ. মন্দির
ঘ. আত্মজীবনী
উত্তর: গ. মন্দির
ব্যাখ্যা: নিজের নাম গোপন রেখে মামা সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের নামে পাঠানো ‘মন্দির’ গল্পের জন্য শরৎচন্দ্র বিখ্যাত ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ লাভ করেন।

১৬. ‘দেবদাস’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন জাতীয় গ্রন্থ?
ক. ভ্রমণকাহিনী
খ. ছোটোগল্প
গ. উপন্যাস
ঘ. আত্মজীবনী
উত্তর: গ. উপন্যাস
ব্যাখ্যা: ‘দেবদাস’ হলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি প্রেমের উপন্যাস, যা নিয়ে পরবর্তীতে বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

১৭. ‘চরিত্রহীন’ কে রচনা করেন?
ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
খ. সুকান্ত ভট্টাচার্য
গ. হুমায়ূন আহমেদ
ঘ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: ‘চরিত্রহীন’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সমাজ ও মনস্তত্ত্বভিত্তিক একটি বহু আলোচিত ও বিখ্যাত উপন্যাস।

১৮. কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
ক. ঘরে বাইরে
খ. রাজসিংহ
গ. চোখের বালি
ঘ. শ্রীকান্ত
উত্তর: ঘ. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা: ‘শ্রীকান্ত’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চার খণ্ডে রচিত একটি আংশিক আত্মজৈবনিক এবং বিখ্যাত উপন্যাস (বাকি তিনটি রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রের)।

১৯. ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ. কাজী নজরুল ইসলাম
ঘ. জহির রায়হান
উত্তর: ক. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা: অচলা, মহিম ও সুরেশের জটিল মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন নিয়ে রচিত ‘গৃহদাহ’ উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের এক শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।

২০. কোনগুলো শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
ক. ঘরে বাইরে, নৌকাডুবি
খ. বিষবৃক্ষ, রাজসিংহ
গ. চরিত্রহীন, দেনা-পাওনা
ঘ. মাটিচুর, পদ্মরাগ
উত্তর: গ. চরিত্রহীন, দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা: ‘চরিত্রহীন’ ও ‘দেনা-পাওনা’ দুটিই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত সমাজ-বাস্তবতাধর্মী উপন্যাস।

২১. সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কত সালে ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে?
ক. ১৯৩৩ সালে
খ. ১৯৩৪ সালে
গ. ১৯৩৬ সালে
ঘ. ১৯৩৫ সালে
উত্তর: গ. ১৯৩৬ সালে
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ‘ডি.লিট’ (Doctor of Literature) ডিগ্রি দেয়।

২২. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৩৩ সালে
খ. ১৯৩৮ সালে
গ. ১৯৩৬ সালে
ঘ. ১৯৩৫ সালে
উত্তর: খ. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা: এই মহান কথাশিল্পী ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

২৩. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
ক. কলকাতায়
খ. আসামে
গ. হুগলীতে
ঘ. রেঙ্গুনে
উত্তর: ক. কলকাতায়
ব্যাখ্যা: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো কলকাতায় কাটিয়েছেন এবং সেখানেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৪. ন্যাড়ার স্কুলে যাতায়াতের পথ কত ক্রোশ দূরে?
ক. এক ক্রোশ
খ. দুই ক্রোশ
গ. তিন ক্রোশ
ঘ. চার ক্রোশ
উত্তর: খ. দুই ক্রোশ
ব্যাখ্যা: গল্পের কথক ন্যাড়াকে প্রতিদিন দুই ক্রোশ (প্রায় ৪ মাইল) পথ হেঁটে স্কুলে যেতে এবং দুই ক্রোশ পথ হেঁটে বাড়ি ফিরতে হতো।

২৫. ন্যাড়া ও তার সহপাঠীরা দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়ার কারণ কী?
ক. দূরের স্কুলের সুনাম থাকায়
খ. কাছের স্কুল বন্ধ থাকায়
গ. কাছে স্কুল না থাকায়
ঘ. কাছের স্কুলের দুর্নাম থাকায়
উত্তর: গ. কাছে স্কুল না থাকায়
ব্যাখ্যা: তৎকালীন পল্লিগ্রামে শিক্ষার সুযোগ কম ছিল এবং তাদের নিজেদের গ্রামের আশেপাশে কোনো স্কুল না থাকায় এতটা পথ হাঁটতে হতো।

See also  অপরিচিতা গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর HSC পরীক্ষা 2026

২৬. ‘বিলাসী’ গল্পে বর্ণিত যাদের বাড়ি পল্লিগ্রামে তাদের শতকরা কতভাগকে বিদ্যার্জনের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়?
ক. ৪০ ভাগকে
খ. ৬০ ভাগকে
গ. ৮০ ভাগকে
ঘ. ১০০ ভাগকে
উত্তর: ঘ. ১০০ ভাগকে
ব্যাখ্যা: লেখক ব্যঙ্গ করে বলেছেন, গ্রামে যাদের বাড়ি তাদের শতকরা ১০০ জনকেই এভাবে কাদা-জঙ্গল মাড়িয়ে বহু দূরে গিয়ে শিক্ষা লাভ করতে হতো।

২৭. ‘সরস্বতী খুশি হইয়া বর দিবেন কী’ -এ কথার কারণ কী?
ক. ছাত্রদের কষ্ট
খ. ছাত্রদের আগ্রহ
গ. ছাত্রদের খুশি
ঘ. ছাত্রদের শহরমুখিতা
উত্তর: ক. ছাত্রদের কষ্ট
ব্যাখ্যা: প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি ও কাদা ভেঙে চার ক্রোশ পথ হাঁটার পরিশ্রমে ছাত্ররা এতটা ক্লান্ত হয়ে পড়ত যে বিদ্যার দেবী সরস্বতীও তাদের এই কষ্ট দেখে বর দেওয়ার পথ খুঁজে পেতেন না।

২৮. ‘ম্যালেরিয়ার কথাটা না হয় নাই পাড়িলাম’ -উক্তিটি কোন রচনার অন্তর্গত?
ক. অপরিচিতা
খ. বিলাসী
গ. আমার পথ
ঘ. মাসি-পিসি
উত্তর: খ. বিলাসী
ব্যাখ্যা: ‘বিলাসী’ গল্পের শুরুতে গ্রামের পরিবেশ, ছাত্রদের কষ্ট এবং মহামারীর মতো ছড়িয়ে থাকা ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ বোঝাতে লেখক এই উক্তিটি করেছেন।

২৯. ‘বিলাসী’ গল্পে ভদ্রলোকদের শহর ছেড়ে আর গ্রামে আসা হয় না কেন?
ক. গ্রামের পরিবেশ পছন্দ হয় না বলে
খ. গ্রামের শিক্ষার ভালো পরিবেশ না থাকায়
গ. শহরের নাগরিক সুবিধায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায়
ঘ. শহরের অর্থনৈতিক উন্নতি হারানোর শঙ্কায়
উত্তর: খ. গ্রামের শিক্ষার ভালো পরিবেশ না থাকায়
ব্যাখ্যা: গ্রামের ছেলেদের শিক্ষার জন্য যে অমানুষিক কষ্ট করতে হয়, তা দেখে ভদ্রলোকেরা সন্তানদের শিক্ষার কথা চিন্তা করে শহরমুখী হন এবং গ্রামে আর ফেরেন না।

৩০. ‘কামস্কাট্‌কার’ রাজধানীর কথা কোন গল্পে উল্লেখ আছে?
ক. অপরিচিতা
খ. একটি তুলসী গাছের কাহিনী
গ. আহ্বান
ঘ. বিলাসী
উত্তর: ঘ. বিলাসী
ব্যাখ্যা: দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্ররা পড়া মুখস্থ করতে করতে যেত; তারই উদাহরণ দিতে গিয়ে রাশিয়ার ‘কামস্কাটকা’ উপদ্বীপের রাজধানীর নাম মুখস্থ করার কথা বলা হয়েছে।

৩১. মাঝে মাঝেই স্কুলের পথে কার সাথে ন্যাড়ার দেখা হতো?
ক. বিলাসীর সাথে
খ. মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে
গ. মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার সাথে
ঘ. বুড়ো মালোর সাথে
উত্তর: খ. মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে
ব্যাখ্যা: ন্যাড়াদের চেয়ে একটু বড় এবং একই স্কুলে পড়া মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে মাঝে মাঝেই ন্যাড়ার স্কুলের পথে দেখা হতো।

৩২. ‘সম্ভবত তাহা প্রত্নতাত্ত্বিকের গবেষণার বিষয়’ -উক্তিটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
ক. বিশ্বাস
খ. ব্যঙ্গ
গ. বিস্ময়
ঘ. হতাশা
উত্তর: খ. ব্যঙ্গ
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় কত বছর ধরে এবং কোন প্রাচীন কাল থেকে একই ক্লাসে অধ্যায়ন করছে, তা বোঝাতে লেখক ঠাট্টা বা ব্যঙ্গ করে প্রত্নতাত্ত্বিকের গবেষণার কথা বলেছেন।

৩৩. ন্যাড়া পরীক্ষার উত্তরপত্রে হুমায়ূনের পিতার নাম কী লেখে?
ক. হালাকু খাঁ
খ. বাবর খাঁ
গ. চেঙ্গিস খাঁ
ঘ. তোগলক খাঁ
উত্তর: খ. বাবর খাঁ
ব্যাখ্যা: মোগল সম্রাট হুমায়ূনের আসল পিতার নাম বাবর হলেও, ঐতিহাসিক ভুল তথ্যের কৌতুক হিসেবে এটি গল্পে উল্লেখ রয়েছে।

৩৪. ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
ক. ফার্স্ট ক্লাসে
খ. থার্ড ক্লাসে
গ. ফোর্থ ক্লাসে
ঘ. সেকেন্ড ক্লাসে
উত্তর: খ. থার্ড ক্লাসে
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের ‘থার্ড ক্লাসে’ (বর্তমান অষ্টম শ্রেণি) পড়াশোনা করছিল।

৩৫. গ্রামের এক প্রান্তে কার বাগান ছিল?
ক. মৃত্যুঞ্জয়ের
খ. বিলাসীর
গ. ন্যাড়ার
ঘ. খুড়ার
উত্তর: ক. মৃত্যুঞ্জয়ের
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয়ের পৈত্রিক সম্পত্তির মধ্যে গ্রামের এক কোণে একটা মস্ত বড় ফালের বাগান ছিল।

৩৬. মৃত্যুঞ্জয়ের কীসের বাগান ছিল?
ক. আম-কাঁঠালের
খ. কলা-আনারসের
গ. পেয়ারা-লিচুর
ঘ. আপেল-কমলার
উত্তর: ক. আম-কাঁঠালের
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানটি ছিল মূলত বিশাল এক আম ও কাঁঠালের বাগান, যা বিক্রি বা জমা দিয়ে তার সংসার চলত।

৩৭. মৃত্যুঞ্জয়ের জীবিকানির্বাহ হতো কীভাবে?
ক. আমবাগান জমা দিয়ে
খ. চাকরি দ্বারা
গ. সাপ খেলা দেখিয়ে
ঘ. ব্যবসা দ্বারা
উত্তর: ক. আমবাগান জমা দিয়ে
ব্যাখ্যা: অনাথ মৃত্যুঞ্জয়ের কোনো চাকরি বা ব্যবসা ছিল না, সে তার বিশাল আম-কাঁঠালের বাগানটি প্রতি বছর ‘জমা’ বা ইজারা দিয়ে প্রাপ্ত টাকায় চলত।

৩৮. মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়ার কাজ কী ছিল?
ক. ভাইপোর নানাবিধ দুর্নাম করা
খ. ভাইপোর নানাবিধ সুনাম করা
গ. ভাইপোর সঙ্গে ঝগড়া করা
ঘ. ভাইপোর নানাবিধ সেবা করা
উত্তর: ক. ভাইপোর নানাবিধ দুর্নাম করা
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া (চাচা) ছিলেন অত্যন্ত কুটিল। তার মূল কাজই ছিল গ্রামের মানুষের কাছে ভাইপো মৃত্যুঞ্জয়ের নামে নানা মিথ্যা কুৎসা ও দুর্নাম রটানো।

See also  100+ মাসি পিসি গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর | Masi Pisi Golper MCQ 2026

৩৯. মৃত্যুঞ্জয়ের বাগানের অর্ধেক অংশ কে নিজের বলে দাবি করত?
ক. খুড়া
খ. সাপুড়
গ. ন্যাড়া
ঘ. ভুদেববাবু
উত্তর: ক. খুড়া
ব্যাখ্যা: লোভী খুড়া ভাইপোকে ফাঁকি দিয়ে তার মূল্যবান আম-কাঁঠাল বাগানের অর্ধেক অংশ নিজের অংশ বলে দাবি করত।

৪০. ‘উপরের আদালতের হুকুমে’ বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে?
ক. হাইকোর্টের নির্দেশে
খ. জজকোর্টের নির্দেশে
গ. স্রষ্টার নির্দেশে
ঘ. খুড়ার নির্দেশে
উত্তর: গ. স্রষ্টার নির্দেশে
ব্যাখ্যা: খুড়া মামলা করে বাগান দখল করতে চেয়েছিল, কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের অকাল মৃত্যুর কারণে বাগানটি এমনিতেই খুড়ার দখলে চলে যায়; একেই লেখক ঈশ্বরের বা স্রষ্টার নির্দেশ বলেছেন।

৪১. ‘বিলাসী’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয় প্রসঙ্গে ‘সুনাম’ কথাটি দ্বারা কী প্রকাশ পেয়েছে?
ক. দুর্নাম
খ. খ্যাতি
গ. সম্মান
ঘ. প্রতাপ
উত্তর: ক. দুর্নাম
ব্যাখ্যা: সমাজ বা খুড়া যেভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের নামে গাঁজাখোর, অকর্মণ্য ইত্যাদি বদনাম ছড়াত, লেখক তাকেই ব্যঙ্গ করে ‘সুনাম’ বলেছেন।

৪২. ‘বিলাসী’ গল্পে ন্যাড়া তার এক আত্মীয়ের কাহিনি উল্লেখ করে কী বোঝাতে চেয়েছে?
ক. স্বামীর গুরুত্ব
খ. সেচ্ছাচারিতা
গ. প্রেমের মহিমা
ঘ. মেকি স্বামীপ্রেম
উত্তর: ঘ. মেকি স্বামীপ্রেম
ব্যাখ্যা: মুখে পতিব্রতা সাজা কিন্তু বিপদের সময় স্বামীকে ফেলে পালানো নারীদের তথাকথিত ‘মেকি বা ভণ্ড স্বামীপ্রেম’কে তুলে ধরার জন্য ন্যাড়া তার এক আত্মীয়ের উদাহরণ দেয়।

৪৩. মৃত্যুঞ্জয় শয্যাগত প্রায় কতদিন?
ক. এক মাস
খ. দেড় মাস
গ. দুই মাস
ঘ. আড়াই মাস
উত্তর: খ. দেড় মাস
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় কঠিন এক মরণাপন্ন রোগে প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী ছিল।

৪৪. অсуস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে দেখতে ন্যাড়া কখন তার বাড়িতে যায়?
ক. ভোরে
খ. সন্ধ্যায়
গ. দুপুরে
ঘ. গভীর রাতে
উত্তর: ঘ. গভীর রাতে
ব্যাখ্যা: লোকলজ্জা ও বারণ উপেক্ষা করে ন্যাড়া একদিন কৌতূহলবশত একদম গভীর নিশীথে বা রাতে মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়াবাড়িতে তাকে দেখতে গিয়েছিল।

৪৫. মৃত্যুঞ্জয়ের পোড়াবাড়িতে কিসের বালাই নেই?
ক. কুটুমের
খ. প্রাচীরের
গ. সাজ-সজ্জার
ঘ. আভিজাত্যের
উত্তর: খ. প্রাচীরের
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িটি ছিল অত্যন্ত জীর্ণ ও পরিত্যক্ত এক পোড়াবাড়ি, যেখানে কোনো সীমানা প্রাচীর বা দেয়াল ছিল না।

৪৬. যমরাজ মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে সুবিধা করতে পারেনি কেবল কার জোরে?
ক. বিলাসীর
খ. ন্যাড়ার
গ. বুড়ো মালোর
ঘ. মৃত্যুঞ্জয়ের
উত্তর: ক. বিলাসীর
ব্যাখ্যা: মৃত্যুঞ্জয় যখন মৃত্যুর মুখে, তখন সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী দিন-রাত এক করে নিজের সর্বস্ব দিয়ে সেবা করায় মৃত্যুর দেবতা যমরাজও হার মানতে বাধ্য হন।

৪৭. সামনে পরীক্ষা বলে সুরভী নাওয়া-খাওয়া ভুলে রাত জেগে পড়াশোনা করায় ওর লাবণ্যময় চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। সুরভীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য উক্তি কোনটি?
ক. ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুল
খ. অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে
গ. বাস্তবিক যমরাজ চেষ্টার ত্রুটি কিছু করেন নাই
ঘ. মা-সরস্বতী কোথায় যে লুকাইবেন, ভাবিয়া পান না
উত্তর: ক. ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুল
ব্যাখ্যা: রাত জেগে সেবা করার কারণে বিলাসীর যে শীর্ণ ও ক্লান্ত অথচ এক অপূর্ব করুণ রূপ হয়েছিল, তার বর্ণনায় এই ‘বাসি ফুল’-এর উপমাটি দেওয়া হয়েছিল।

৪৮. অসুস্থ থাকাকালে মৃত্যুঞ্জয় কত দিন অচেতন অবস্থায় ছিল?
ক. ৭-৮ দিন
খ. ১০-১৫ দিন
গ. ৮-১০ দিন
ঘ. ১৫-২০ দিন
উত্তর: খ. ১০-১৫ দিন
ব্যাখ্যা: রোগের তীব্রতায় মৃত্যুঞ্জয় একটানা প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন বা অচেতন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিল।

৪৯. মৃত্যুঞ্জয়কে সেবাযত্ন করে যমের মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে কে?
ক. বিলাসী
খ. খুড়া
গ. ন্যাড়া
ঘ. বুড়ো মালো
উত্তর: ক. বিলাসী
ব্যাখ্যা: জাতের তোয়াক্কা না করে সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে সেবা করে মৃত্যুঞ্জয়কে মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনে।

৫০. ‘ঠিক যেন ফুলদানিতে জল দিয়া ভিজাইয়া রাখা বাসি ফুলের মতো’ -উক্তিটি কার সম্পর্কে বলা হয়েছে?
ক. মৃত্যুঞ্জয়
খ. ন্যাড়া
গ. বিলাসী
ঘ. খুড়া
উত্তর: গ. বিলাসী
ব্যাখ্যা: দীর্ঘ দেড় মাস ধরে নাওয়া-খাওয়া ভুলে রোগীর সেবা করায় বিলাসীর শরীরের যে মলিন কিন্তু পবিত্র রূপ প্রকাশ পেয়েছিল, লেখক তাকেই বাসি ফুলের সাথে তুলনা করেছেন।

Blogger Profile Info
Profile

Bisshas Prodhan

Hi, I’m an SEO Expert and Bangla blogger who creates simple, helpful content like quotes, captions, and educational articles. I focus on making information easy to understand for everyone. I also use SEO strategies to help websites grow and reach more people online. 🌸 Visit: Amarsikkha.com

Leave a Comment