অপরিচিতা গল্পের mcq প্রশ্নের উত্তর ও মূলভাব।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ গল্পটি মূলত যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদ, নারীর আত্মমর্যাদার জয়গান এবং এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের আত্মোপলব্ধির কাহিনী। গল্পের কথক অনুপম ছিল মা ও মামার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, মেরুদণ্ডহীন এক যুবক।
তার বিয়ের আসরে লোভী মামা যখন কনের গহনা মেপে দেখার মতো চরম অপমানজনক আচরণ করেন, তখন কনে কল্যাণীর আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বাবা শম্ভুনাথ সেন লোভী পাত্রপক্ষের মুখে উপযুক্ত জবাব দিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন। এই ঘটনার পর কল্যাণী কেবল ঘরের কোণে কান্নায় ভেঙে পড়েনি, বরং সমস্ত সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে এক স্বাধীন ও স্বাবলম্বী নারীতে রূপান্তরিত হয়েছে।
অন্যদিকে, কল্যাণীর এই দৃপ্ত রূপ ও ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি হয়ে অনুপমের ভেতরের মানুষটি জেগে ওঠে; সে নিজের কাপুরুষতা বুঝতে পেরে অনুশোচনার আগুনে পুড়ে খাঁটি মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত গল্পটি কোনো সাধারণ প্রেমের কাহিনীতে সীমাবদ্ধ না থেকে, অন্ধ সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের আত্মসম্মান, নারীর অধিকার এবং ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠার এক অনন্য ও প্রেরণাদায়ক দলিল হয়ে উঠেছে।
অপরিচিতা গল্পের MCQ উত্তর
১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
ক. ১৮৬১
খ. ১৮৬২
গ. ১৮৬৩
ঘ. ১৮৬৪
উত্তর: ক. ১৮৬১
ব্যাখ্যা: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (২৫শে বৈশাখ ১২৬৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
২. বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প রচয়িতা কে?
ক. প্রমথ চৌধুরী
খ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ঘ. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: গ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্পের সূচনা আগে হলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতেই এটি প্রথম সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন অভিধায় সম্ভাষিত?
ক. বিশ্বকবি
খ. চারণ কবি
গ. জাতীয় কবি
ঘ. নাগরিক কবি
উত্তর: ক. বিশ্বকবি
ব্যাখ্যা: বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ ও ‘কবিকুলগুরু’ অভিধায় ভূষিত করা হয়।
৪. ‘গল্পগুচ্ছে’ কতটি গল্প সংকলিত হয়েছে?
ক. ৯১
খ. ৯২
গ. ৯৪
ঘ. ৯৫
উত্তর: গ. ৯৪
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের প্রধান সংকলন হলো ‘গল্পগুচ্ছ’, যার চারটি খণ্ডে মোট ৯৪টি গল্প স্থান পেয়েছে।
৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসবাস করেছিলেন কেন?
ক. সাহিত্য সাধনার জন্য
খ. জমিদারি দেখাশোনার জন্য
গ. প্রকৃতির কাছে থাকার জন্য
ঘ. মানুষের কাছাকাছি থাকার জন্য
উত্তর: খ. জমিদারি দেখাশোনার জন্য
ব্যাখ্যা: পিতার আদেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৯ সালের দিকে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে তাঁদের পারিবারিক জমিদারি তদারকির দায়িত্ব নিয়ে আসেন।
৬. কোথায় বসবাসের কাল রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প রচনার স্বর্ণযুগ?
ক. শান্তিনিকেতন
খ. জোড়াসাঁকো
গ. শাহজাদপুর
ঘ. শিলাইদহ
উত্তর: ঘ. শিলাইদহ
ব্যাখ্যা: শিলাইদহে জমিদারি দেখাশোনার সময় গ্রামীণ প্রকৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখে তিনি তাঁর সেরা ছোটগল্পগুলো রচনা করেন।
৭. ‘কাজী নজরুল ইসলাম ছোটগল্পের পাশাপাশি উপন্যাসও লিখেছেন।’ কাজী নজরুল ইসলামের সাথে কার সাদৃশ্য রয়েছে?
ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ. শামসুর রাহমান
গ. প্রমথ চৌধুরী
ঘ. বুদ্ধদেব বসু
উত্তর: ক. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও কবি ও ছোটগল্পকার হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছু কালজয়ী উপন্যাস (যেমন: গোরা, চোখের বালি) রচনা করেছেন।
৮. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ শতকে যেসব ছোটগল্প লিখেছেন সেখানে কী প্রাধান্য পেয়েছে?
ক. প্রকৃতি
খ. ভাবকল্পনা
গ. বিরহ
ঘ. বাস্তবতা
উত্তর: ঘ. বাস্তবতা
ব্যাখ্যা: বিশ শতকের গল্পগুলোতে রবীন্দ্রনাথের রোমান্টিক ভাবকল্পনার চেয়ে সমকালীন সমাজ, মনস্তত্ত্ব ও কঠিন বাস্তবতার রূপ বেশি ফুটে উঠেছে।
৯. ‘শেষের কবিতা’ কী?
ক. কবিতা
খ. ছোটগল্প
গ. নাটক
ঘ. উপন্যাস
উত্তর: ঘ. উপন্যাস
ব্যাখ্যা: ‘শেষের কবিতা’ নামের শেষে কবিতা শব্দটি থাকলেও এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় রোমান্টিক বা কাব্যিক উপন্যাস।
১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
ক. ১৯৪০
খ. ১৯৪১
গ. ১৯৪৩
ঘ. ১৯৪৫
উত্তর: খ. ১৯৪১
ব্যাখ্যা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) কলকাতার জোড়াসাঁকোতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১১. অনুপম কার হাতে মানুষ?
ক. মা’র
খ. বাবার
গ. মামার
ঘ. ধাত্রীর
উত্তর: ক. মা’র
ব্যাখ্যা: অনুপমের বাবা অল্প বয়সেই মারা যান, তাই সে মূলত তার মায়ের কোলে এবং মায়ের শাসনেই বড় হয়ে উঠেছে।
১২. অনুপমের মা কেমন ঘরের মেয়ে?
ক.বামুনের
খ. গরিবের
গ. কায়েতের
ঘ. ধনীর
উত্তর: খ. গরিবের
ব্যাখ্যা: অনুপমের মা গরিব ঘরের মেয়ে ছিলেন, তাই ধনী পরিবারে এসেও তিনি কখনো নিজের বাপের বাড়ির দারিদ্র্যের কথা ভুলতে পারেননি।
১৩. কাকে দেখলে অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাই বলে মনে হবে?
ক. কার্তিক
খ. অনুপমকে
গ. হরিশ
ঘ. মামা
উত্তর: খ. অনুপমকে
ব্যাখ্যা: অনুপম মায়ের কোলে এমনভাবে আদরে মানুষ হয়েছে যে, তাকে দেখতে দেবী দুর্গার (অন্নপূর্ণা) কোলে বসে থাকা গণেশের (গজানন) ছোট ভাইয়ের মতো মনে হতো।
১৪. অনুপমের থেকে তার মামা বড়জোর কত বছরের বড়?
ক. দুই
খ. তিন
গ. চার
ঘ. ছয়
উত্তর: খ. তিন
ব্যাখ্যা: অনুপমের মামা তার চেয়ে মাত্র বছর তিনেকের বড় হলেও, তাঁর গম্ভীর স্বভাব ও কর্তৃত্বের কারণে তিনি সংসারের সর্বেসর্বা ছিলেন।
১৫. কন্যার পিতামাত্রেই কী স্বীকার করবেন?
ক. গল্পকথক খুবই সুদর্শন
খ. গল্পকথক খুবই বিনয়ী
গ. গল্পকথক একজন সুনাগরিক
ঘ. গল্পকথক একজন সৎপাত্র
উত্তর: ঘ. গল্পকথক একজন সৎপাত্র
ব্যাখ্যা: অনুপম পাস করা এবং কোনো প্রকার নেশা বা খারাপ অভ্যাস না থাকায় যেকোনো মেয়ের বাবার চোখেই সে ছিল একজন আদর্শ ও যোগ্য পাত্র।
১৬. অনুপম নিতান্তই ভালো মানুষ কেন?
ক. ধূমপানের অভ্যাস না থাকায়
খ. ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নাই বলে
গ. মন্দলোকদের সাথে না মেশায়
ঘ. ভালো বংশে জন্মগ্রহণ করায়
উত্তর: খ. ভালো মানুষ হওয়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নাই বলে
ব্যাখ্যা: অনুপমের কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না, মায়ের কথামতো চলাই ছিল তার কাজ; তাই কষ্ট ছাড়া ভালো মানুষ হওয়া তার জন্য সহজ ছিল।
১৭. কেমন ঘর থেকে অনুপমের সম্বন্ধ এসেছিল?
ক. খান্দানি ঘর
খ. বনেদি ঘর
গ. অনেক বড় ঘর
ঘ. অনেক ছোট ঘর
উত্তর: গ. অনেক বড় ঘর
ব্যাখ্যা: অনুপমের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকায় তার জন্য অনেক বড় বা নামী ঘর থেকেই বিয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসছিল।
১৮. ‘অপরিচিতা’ গল্পে উল্লেখকৃত বিবাহ সম্বন্ধে কার একটা বিশেষ মত ছিল?
ক. অনুপমের
খ. মা’র
গ. মামার
ঘ. কল্যাণীর
উত্তর: গ. মামার
ব্যাখ্যা: বিয়ে নিয়ে মামার বিশেষ মত ছিল যে, পাত্রীর পরিবার ধনী হবে না কিন্তু টাকা দিতে কোনো কার্পণ্য করবে না।
১৯. অনুপমের বন্ধুর নাম কী?
ক. হিরণ
খ. হরিশ
গ. নরেশ
ঘ. পরেশ
উত্তর: খ. হরিশ
ব্যাখ্যা: হরিশ ছিল অনুপমের বন্ধু, যে কানপুরে চাকরি করত এবং সেই কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ের প্রাথমিক আলোচনাটি শুরু করে।
২০. হরিশ কোথায় কাজ করে?
ক. মালদহে
খ. বীরভূমে
গ. কানপুরে
ঘ. ভুজপুরে
উত্তর: গ. কানপুরে
ব্যাখ্যা: হরিশ কলকাতার বাইরে কানপুরে চাকরি বা কাজ করত এবং সেখান থেকেই ছুটিতে কলকাতায় ফিরেছিল।
২১. হরিশ ছুটিতে কোথায় এসেছিল?
ক. মালদহে
খ. কানপুরে
গ. আসানসোলে
ঘ. কলিকাতায়
উত্তর: ঘ. কলিকাতায়
ব্যাখ্যা: কানপুরে কর্মরত হরিশ তার কর্মস্থলের ছুটি কাটাতে অনুপমদের শহর কলকাতায় এসেছিল।
২২. অনুপমের ‘মন উতলা’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
ক. উদ্বেগ
খ. উৎকণ্ঠা
গ. শঙ্কা
ঘ. আকুলতা
উত্তর: ঘ. আকুলতা
ব্যাখ্যা: হরিশের মুখে কল্যাণীর রূপের এবং চমৎকার স্বভাবের বর্ণনা শুনে অনুপমের মনে বিয়ের জন্য এক তীব্র ব্যাকুলতা বা আকুলতা তৈরি হয়েছিল।
২৩. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম ‘এই অবকাশ’ বলতে কোন সময়ে বোঝানো হয়েছে?
ক. এম. এ. পাসের পরের সময়
খ. কলেজের ছুটির সময়
গ. বিয়ের সিদ্ধান্ত হওয়ার পরের সময়
ঘ. বিয়ের আয়োজনের পূর্বের সময়
উত্তর: ক. এম. এ. পাসের পরের সময়
ব্যাখ্যা: অনুপম এম.এ. পাস করার পর যখন তার কোনো চাকরি বা বিশেষ কাজ ছিল না, সেই অলস অবসর সময়টিকে এখানে ‘অবকাশ’ বলা হয়েছে।
২৪. কোন বাতাসে অনুপমের শরীর মন কাঁপতে লাগল?
ক. গ্রীষ্মের
খ. বর্ষার
গ. শীতের
ঘ. বসন্তের
উত্তর: ঘ. বসন্তের
ব্যাখ্যা: হরিশের মুখে বিয়ের কথা শোনার পর ফাল্গুনের বা বসন্তের উদাস বাতাসে অনুপমের মন এক অজানা আবেগে আন্দোলিত হয়েছিল।
২৫. হরিশ কোন বিষয়ে অদ্বিতীয় ছিল?
ক. ঘটকালিতে
খ. তাস পেটাতে
গ. আসর জমাতে
ঘ. গুল মারতে
উত্তর: গ. আসর জমাতে
ব্যাখ্যা: হরিশের আড্ডা দেওয়ার ও চমৎকার কথা বলে মানুষের মন জয় করার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল, যা তাকে আসর জমাতে অদ্বিতীয় করেছিল।
২৬. কার মন ছিল তৃষার্ত?
ক. হরিশের
খ. অনুপমের
গ. মামার
ঘ. মা’র
উত্তর: খ. অনুপমের
ব্যাখ্যা: অন্তপুরের চারদেয়ালে বড় হওয়া অনুপমের মন বাইরের জগতের সৌন্দর্য এবং একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার জন্য তৃষ্ণার্ত ছিল।
২৭. মামা কাকে পেলে ছাড়তে চান না?
ক. অনুপমকে
খ. হরিশকে
গ. কল্যাণীকে
ঘ. কল্যাণীর বাবাকে
উত্তর: খ. হরিশকে
ব্যাখ্যা: হরিশের আসর জমানোর ক্ষমতা ও চমৎকার কথাবার্তার কারণে অনুপমের মামাও তাকে খুব পছন্দ করতেন এবং কাছে পেলে ছাড়তে চাইতেন না।
২৮. কথাটা কার বৈঠকে উঠল?
ক. বাবার
খ. মা’র
গ. হরিশের
ঘ. মামার
উত্তর: ঘ. মামার
ব্যাখ্যা: কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে মামার বসার ঘরে বা বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছিল।
২৯. মামার কাছে মেয়ের চেয়ে মেয়ের বাপের দেশত্যাগ করে পশ্চিমে গিয়ে বাস করার কারণ কী?
ক. গুরুতর
খ. গুরুত্বপূর্ণ
গ. জরুরি
ঘ. সাংঘাতিক
উত্তর: খ. গুরুত্বপূর্ণ
ব্যাখ্যা: কনের বাবা কেন নিজের দেশ ছেড়ে পশ্চিমে (কানপুরে) গিয়ে থাকছেন, সেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণটি মামার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৩০. ‘অপরিচিতা’ গল্পে উল্লেখকৃত কার পেছনে মেয়ের বাপের লক্ষীর ঘটটি উপুড় করে দিতে দ্বিধা হবে না?
ক. দেশে সুন্দরী কন্যা নিয়ে বাস করা দায়
খ. আর্থিক দৈন্যে দেশে সমাজ রক্ষা করে চলা দায়
গ. পশ্চিমে বেশিরভাগ পুণ্যभूमि অবস্থিত
ঘ. মেয়ের বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায়
উত্তর: খ. আর্থিক দৈন্যে দেশে সমাজ রক্ষা করে চলা দায়
ব্যাখ্যা: বাপের দেশে অভাবের কারণে সমাজ রক্ষা করে চলা কঠিন বলেই তিনি পশ্চিমে গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন এবং সেখানেই অর্থ জমিয়েছেন।
৩১. পশ্চিমে মেয়ের বাবা কী অবস্থায় থাকেন?
ক. রাজার হালে
খ. জমিদারের মতো
গ. প্রজার মতো
ঘ. গরিব গৃহস্থের মতো
উত্তর: ঘ. গরিব গৃহস্থের মতো
ব্যাখ্যা: পশ্চিমে প্রচুর অর্থ উপার্জন করলেও কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ সেন অত্যন্ত সাদাসিধে ও সাধারণ একজন গৃহস্থের মতো জীবনযাপন করতেন।
৩২. ‘অপরিচিতা’ গল্পে উল্লেখকৃত কার পেছনে মেয়ের বাপের লক্ষীর ঘটটি উপুড় করে দিতে দ্বিধা হবে না?
ক. জামাইয়ের
খ. মেয়ের
গ. অনুপমের
ঘ. মেয়ের শাশুড়ির
উত্তর: খ. মেয়ের
ব্যাখ্যা: শম্ভুনাথ বাবুর মাত্র একটিই মেয়ে, তাই মেয়ের সুখের জন্য তাঁর সমস্ত জমানো ধন-সম্পদ বা লক্ষ্মীর ঘট উজাড় করে দিতে তাঁর কোনো দ্বিধা ছিল can না।
৩৩. বরের হাট মহার্ঘ কেন?
ক. যোগ্য বরের অভাবে
খ. যৌতুকের কারণে
গ. স্থান-কাল-পাত্রের বাছবিচারে
ঘ. মেয়ের বয়সের কারণে
উত্তর: খ. যৌতুকের কারণে
ব্যাখ্যা: তৎকালীন সমাজে কনেপক্ষের তুলনায় ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন পাত্রের চড়া দাম বা অতিরিক্ত যৌতুক দাবির কারণে বরের বাজার ছিল মহার্ঘ বা চড়া।
৩৪. অনুপমের মামার মন নরম হলো কেন?
ক. মেয়ের রূপ সৌন্দর্যে
খ. মেয়ের বংশের কৌলিন্যে
গ. মেয়ের বাবার আতিথেয়তায়
ঘ. মেয়ের বাবার অর্থের লোভে
উত্তর: ঘ. মেয়ের বাবার অর্থের লোভে
ব্যাখ্যা: কনের বাবা শম্ভুনাথ বাবুর জমানো টাকা আছে এবং তিনি মেয়ের পেছনে সব খরচ করতে রাজি এই আর্থিক লোভেই মামার মন গলেছিল।
৩৫. ‘অপরিচিতা’ গল্পে ‘বিবাহের ভূমিকা-অংশটা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক. গায়ে হলুদ
খ. আশীর্বাদ
গ. ঘটকালি ও কথাবার্তা
ঘ. বিয়ের কেনাকাটা
উত্তর: গ. ঘটকালি ও কথাবার্তা
ব্যাখ্যা: বিয়ের মূল অনুষ্ঠানের আগে হরিশের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা ও প্রাথমিক কথাবার্তা চলছিল, তাকেই ‘ভূমিকা-অংশ’ বলা হয়েছে।
৩৬. কলিকাতার বাইরে বাকি পৃথিবীটাকে মামা কিসের অন্তর্গত বলে মনে করেন?
ক. আন্দামান দ্বীপ
খ. লঙ্কা দ্বীপ
গ. সুবর্ণদ্বীপ
ঘ. নিঝুম দ্বীপ
উত্তর: ক. আন্দামান দ্বীপ
ব্যাখ্যা: মামা কখনো কলকাতার বাইরে যাননি, তাই তাঁর সংকীর্ণ মানসিকতায় কলকাতার বাইরের পুরো পৃথিবীটাই ছিল নির্বাসনের জায়গা বা ‘আন্দামান দ্বীপ’।
৩৭. ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথকের মনের মধ্যে কী ইচ্ছা ছিল?
ক. কানপুরে যাওয়ার
খ. কোনড়বগর ঘুরে আসার
গ. যৌতুক ছাড়াই বিয়ে করার
ঘ. লুকিয়ে বিয়ে করার
উত্তর: ক. কানপুরে যাওয়ার
ব্যাখ্যা: কনে কল্যাণী কানপুরে থাকে শুনে অনুপমের তীব্র ইচ্ছা ছিল একবার কানপুরে গিয়ে নিজের চোখে তাকে দেখে আসার, যদিও মামার ভয়ে তা পারেনি।
৩৮. অনুপমের নিজের চোখে মেয়ে দেখা হলো না কেন?
ক. বিষয়টি আপত্তিকর বলে
খ. কুলীন বংশে এটি চলে না
গ. মামার এতে ঘোরতর আপত্তি ছিল
ঘ. साहस করে প্রস্তাব করতে না পারায়
উত্তর: ঘ. সাহস করে প্রস্তাব করতে না পারায়
ব্যাখ্যা: অনুপম ছিল অত্যন্ত লাজুক ও ব্যক্তিত্বহীন; মামার অবাধ্য হয়ে নিজে মেয়ে দেখতে যাওয়ার মতো সাহস তার ছিল না।
৩৯. বিনুদাদা ফিরে এসে মেয়ে সম্পর্কে কী বললেন?
ক. মেয়ে চমৎকার সুন্দরী
খ. মেয়েটা খুবই মিষ্টি
গ. খাঁটি সোনা বটে
ঘ. হীরের টুকরো একটা
উত্তর: গ. খাঁটি সোনা বটে
ব্যাখ্যা: অনুপমের পিঠোপিঠো ভাই বিনুদাদা কানপুরে মেয়ে দেখতে গিয়ে ফিরে এসে সংক্ষেপে প্রশংসা করে বলেছিলেন—”মন্দ নয়হে! খাঁটি সোনা বটে।”
৪০. বিনুদার ভাষাটা কেমন?
ক. বড় নীরস
খ. অত্যন্ত আঁট
গ. নিতান্ত সাদামাটা
ঘ. চলনসই
উত্তর: খ. অত্যন্ত আঁট
ব্যাখ্যা: বিনুদাদার ভাষার একটা বিশেষত্ব ছিল, তিনি অতিরিক্ত কথা বলতেন না। তাঁর ভাষা ছিল অত্যন্ত ‘আঁট’ বা সংক্ষিপ্ত, যেখানে রস কম কিন্তু গভীরতা ছিল।
৪১. বিয়ে উপলক্ষে কন্যাপক্ষকে কোথায় আসতে হলো?
ক. কলকাতায়
খ. কানপুরে
গ. বোলপুরে
ঘ. শিয়ালদহে
উত্তর: ক. কলকাতায়
ব্যাখ্যা: মামার আপত্তির কারণে বরপক্ষ কলকাতার বাইরে যেতে রাজি না হওয়ায় শম্ভুনাথ বাবুকে কষ্ট করে মেয়ে নিয়ে কলকাতায় আসতে হয়েছিল।
৪২. ‘অপরিচিতা’ গল্পের কন্যার পিতার নাম কী?
ক. বিশ্বনাথ ঘোষ
খ. শম্ভুনাথ সেন
গ. আদ্যিনাথ বৈদ্য
ঘ. বিশ্বম্ভর দাস
উত্তর: খ. শম্ভুনাথ সেন
ব্যাখ্যা: গল্পের প্রধান নারী চরিত্র কল্যাণীর বাবার নাম হলো শম্ভুনাথ সেন, যিনি পেশায় একজন ডাক্তার ছিলেন।
৪৩. বিয়ের কত দিন পূর্বে কন্যার পিতা পাত্রকে দেখেন?
ক. এক দিন
খ. দুই দিন
গ. তিন দিন
ঘ. চার দিন
উত্তর: গ. তিন দিন
ব্যাখ্যা: বিয়ের মাত্র তিন দিন আগে কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ বাবু প্রথমবার কলকাতায় এসে পাত্র অনুপমকে সশরীরে দেখেছিলেন।
৪৪. ‘অপরিচিতা’ গল্পের কন্যার পিতার বয়স কত?
ক. চল্লিশের কিছু এপারে বা ওপারে
খ. পয়তাল্লিশের কিছু এপারে বা ওপারে
গ. পঞ্চাশের কিছু এপারে বা ওপারে
ঘ. পঞ্চানড়বর কিছু এপারে বা ওপারে
উত্তর: গ. পঞ্চাশের কিছু এপারে বা ওপারে
ব্যাখ্যা: অনুপমের বর্ণনা অনুযায়ী, শম্ভুনাথ বাবুর বয়স ছিল পঞ্চাশের কিছু এপারে বা ওপারে, কিন্তু তাঁর চুল কাঁচা ও শরীর ছিল অত্যন্ত সবল।
৪৫. পাত্র দেখে কন্যার বাপ খুশি কিনা তা বোঝা শক্ত ছিল। কারণ-
ক. তিনি ছিলেন খুবই অন্যমনস্ক
খ. তিনি ছিলেন খুবই চুপচাপ
গ. তিনি ছিলেন খুবই চাপা স্বভাবের
ঘ. তিনি ছিলেন খুবই গম্ভীর
উত্তর: খ. তিনি ছিলেন খুবই চুপচাপ
ব্যাখ্যা: শম্ভুনাথ বাবু অত্যন্ত মৃদুভাষী ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, তাঁর অল্প কথার কারণে তাঁর ভেতরের ভাব বা খুশি হওয়া বোঝা কঠিন ছিল।
৪৬. কী কারণে মামার মুখ অনর্গল ছুটিতেছিল?
ক. অভ্যাসবশে
খ. মুদ্রাদোষে
গ. ধন-মানের বাগাড়ম্বরে
ঘ. যৌতুকের লোভে
উত্তর: গ. ধন-মানের বাগাড়ম্বরে
ব্যাখ্যা: মামা শম্ভুনাথ বাবুর সামনে নিজেদের ঐশ্বর্য, টাকা-পয়সা ও আভিজাত্যের অহংকার বা বাগাড়ম্বর প্রকাশ করতে গিয়ে অনর্গল কথা বলছিলেন।
৪৭. শম্ভুনাথ বাবু কোন প্রসঙ্গের আলোচনায় একেবারেই যোগ দিলেন না?
ক. যৌতুকের
খ. কৌলিন্যের
গ. ভাল-মন্দের
ঘ. ধন-মানের
উত্তর: ঘ. ধন-মানের
ব্যাখ্যা: মামার অনর্গল টাকা-পয়সা ও ধন-সম্পদের অহংকারমূলক আলোচনায় শম্ভুনাথ বাবু সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন এবং কোনো মন্তব্য করেননি।
৪৮. “শম্ভুনাথ বাবু যখন উঠিলেন তখন মামা সংক্ষেপে উপর হইতেই তাঁকে বিদায় করিলেন।” -এই ঘটনার মাধ্যমে নিচের কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে?
ক. মামার বড়লোকি
খ. পাত্রপক্ষের আভিজাত্য
গ. পাত্রপক্ষের প্রতি অবজ্ঞা
ঘ. সৌজন্যতাবোধের অভাব
উত্তর: ঘ. সৌজন্যতাবোধের অভাব
ব্যাখ্যা: হবু বেয়াই বা কনের বাবাকে নিচে নেমে এগিয়ে না দিয়ে বসার ঘর থেকেই বিদায় দেওয়া মামার চরম অহংকার ও সৌজন্যতাবোধের অভাবকে নির্দেশ করে।
৪৯. ‘অপরিচিতা’ গল্পে ‘পণ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছিল?
ক. অঙ্গীকার
খ. সংকল্প
গ. শর্ত
ঘ. প্রতিজ্ঞা
উত্তর: গ. শর্ত
ব্যাখ্যা: এখানে ‘পণ’ বলতে বিয়ের অন্যতম কুৎসিত শর্ত তথা যৌতুক হিসেবে পাত্রপক্ষকে যে অর্থ বা গহনা দিতে হবে, তা বোঝানো হয়েছে।
৫০. পণ সম্বন্ধে দুই পক্ষে কেমন কথা ঠিক হয়েছিল?
ক. পাকাপাকি
খ. বাঁধাধরা
গ. কড়াকড়ি
ঘ. মোটামুটি
উত্তর: গ. কড়াকড়ি
ব্যাখ্যা: যৌতুক বা পণের টাকা ও গহনার পরিমাণ নিয়ে মামা কনেপক্ষের সাথে একদম ‘কড়াকড়ি’ বা কোনো প্রকার ছাড় না দেওয়ার মতো চুক্তি করেছিলেন।